ইরানে ২,৫০০-এর বেশি শিশু হতাহত: ইউনিসেফ
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সময়ে ছড়িয়ে পড়া রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘাতের কারণে ইরান এবং তার আশপাশের মার্কিন মিত্র দেশগুলোতে শিশু হতাহতের ভয়াবহ সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ‘ইউনিসেফ’-এর মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আবদুল ফোফানা এক সুনির্দিষ্ট বিবৃতিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছেন।
গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) ইউনিসেফের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতির সবচেয়ে করুণ ও ভয়াবহ শিকার হচ্ছে নিষ্পাপ শিশুরা। নিজ ঘরবাড়ি, স্কুল কিংবা নিজ পাড়া—যেখানে তাদের সুরক্ষিত থাকার কথা, সেখানেই তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলায় প্রাণ হারাচ্ছে কিংবা চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করছে।
বিবৃতিতে একটি সাম্প্রতিক হৃদয়বিদারক ঘটনার উল্লেখ করে ফোফানা জানান, গত ৩০ জুলাই দক্ষিণ ইরানের উপকূলীয় কেশম দ্বীপের একটি আবাসিক ভবনে মার্কিন হামলায় বাবা-মায়ের সঙ্গে একটি মাত্র দুই বছরের নিষ্পাপ শিশু প্রাণ হারায় এবং আরও দুই শিশু গুরুতর আহত হয়।
আবদুল ফোফানা বলেন, “চলমান এই সংঘাত প্রমাণ করছে যে পুরো অঞ্চলজুড়ে শিশুরাই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় মাশুল গুনছে। গত পাঁচ মাসের টানা সংঘর্ষে এ অঞ্চলের প্রায় ছয়টি দেশে চার হাজারের বেশি শিশু প্রাণ হারিয়েছে অথবা আহত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে মর্মান্তিক পরিস্থিতি ইরানে। এককভাবে কেবল ইরানেই আড়াই হাজারের বেশি (২,৫০৩ জন) শিশু হতাহত হয়েছে—যার মধ্যে ৩৮৬ জন শিশুর অকাল মৃত্যু ঘটেছে এবং ২,১১৭ জন শিশু শারীরিক ও মানসিকভাবে আহত হয়েছে।”
সংঘাতের ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি আরও যোগ করেন, “যে যুদ্ধ শিশুরা শুরু করেনি এবং যা থামানোর কোনো ক্ষমতাও তাদের হাতে নেই, সেই সংঘাতের সবচেয়ে নির্মম পরিণতি তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া মারাত্মক অন্যায়। কোনো পক্ষেরই শিশুদের এই সীমাহীন দুর্ভোগকে স্বাভাবিক বা অবশ্যম্ভাবী ধরে নেওয়া উচিত নয়।”
পরিস্থিতির আশু উত্তরণে ইউনিসেফ মধ্যপ্রাচ্যের সব বিবদমান শক্তি ও দেশের প্রতি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন কঠোরভাবে মেনে চলার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে। অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করে যেকোনো স্থানে শিশুদের সর্বাত্মক সুরক্ষা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি।
|