মালয়েশিয়ায় ইমিগ্রেশনের বড় ক্র্যাকডাউন

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ
মালয়েশিয়ায় ইমিগ্রেশনের বড় ক্র্যাকডাউন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বৈধ নথিপত্র না থাকা এবং কর্মসংস্থান ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়ায় বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছেন প্রবাসী শ্রমিকেরা। দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগের এক বিশাল যৌথ অভিযানে ২৯০ জন বাংলাদেশিসহ মোট ৫০৩ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।

আজ সোমবার (১৩ জুলাই) এক জরুরি প্রেস বিবৃতিতে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দেশটির ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একযোগে এই চিরুনি অভিযান চালানো হয়।

ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, অবৈধভাবে বিদেশি কর্মী নিয়োগকারী সিন্ডিকেট, প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশিদের দ্বারা পরিচালিত অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করেই মূলত এই অভিযান সাজানো হয়েছিল। অভিযানে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ, জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ (এনআরডি), রয়্যাল মালয়েশিয়ান পুলিশ ও স্থানীয় সরকার প্রশাসনের প্রায় ৮৭৬ জন সশস্ত্র কর্মকর্তা সরাসরি অংশ নেন। অভিযান চলাকালীন নিয়োগকর্তা ও বিভিন্ন দেশের শ্রমিকসহ মোট ২ হাজার ২৬০ জনের পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরেজমিনে যাচাই করা হয়। এরপর প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত হয়ে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৫০৩ জনকে স্পট-অ্যারেস্ট করা হয়।

মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান জানান, আটককৃতদের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক কর্মীই বাংলাদেশের। যার সংখ্যা ২৯০ জন। এছাড়া বাকিদের মধ্যে রয়েছেন—

  • মিয়ানমার: ১০১ জন

  • ইন্দোনেশিয়া: ৬৬ জন

  • নেপাল: ৩৮ জন

  • ভারত: ৩৬ জন

  • অন্যান্য দেশ: ১০ জন

ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য মতে, আটকদের মধ্যে ৯৫ জন নারী রয়েছেন এবং আটককৃত সব বিদেশি নাগরিকের বয়স ২১ থেকে ৫২ বছরের মধ্যে।

মালয়েশীয় ইমিগ্রেশন বিভাগ স্পষ্ট করেছে যে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মূলত তিনটি প্রধান ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে— বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা ছাড়া অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় অবস্থান, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশটিতে থেকে যাওয়া (ওভারস্টে) এবং ভিসার কাজের শর্ত বা সেক্টর লঙ্ঘন করা।

তদন্তে আরও দেখা গেছে, আটক হওয়া অনেক বাংলাদেশি কর্মী নির্মাণ (কনস্ট্রাকশন) খাতের কাজের ভিসা নিয়ে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে তারা আইন অমান্য করে সেবা খাত বা বিভিন্ন পোশাকের দোকান ও শপিংমলে কাজ করছিলেন। এছাড়াও, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ‘ইউএনএইচসিআর’ (UNHCR) এর কার্ডধারী কয়েকজনকেও কার্ডের সত্যতা ও জালিয়াতি যাচাই করার জন্য সাময়িকভাবে আটক করা হয়েছে।

পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ, অর্থদণ্ড ও নিজ দেশে ডিপোর্ট (বহিষ্কার) করার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আটক ৫০৩ জনকেই বর্তমানে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন দূরবর্তী ইমিগ্রেশন ডিপোতে স্থানান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই অবৈধ অভিবাসনের তদন্তে সহযোগিতার জন্য আরও ১২০ জন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বিশেষ আইনি নোটিশ বা ‘বোরাং-২৯’ দেওয়া হয়েছে।

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন প্রধান সতর্ক করে বলেছেন, অবৈধ অভিবাসন ও অবৈধ ব্যবসা ঠেকাতে ইতিমধ্যে সারা দেশে ২০০টিরও বেশি ‘হটস্পট’ বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে, যার প্রায় অর্ধেকই রাজধানী কুয়ালালামপুর সংলগ্ন ‘ক্লাং ভ্যালি’ (Klang Valley) এলাকায় অবস্থিত। এসব হটস্পটগুলোতে আগামী দিনগুলোতেও কোনো ধরনের ছাড় ছাড়াই ইমিগ্রেশনের আকস্মিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মন্তব্য করুন