ইরানের পাল্টা হামলায় ২০০-র বেশি মার্কিন সেনা নিহত, দাবি আইআরজিসির

প্রকাশ: রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৪ অপরাহ্ণ
ইরানের পাল্টা হামলায় ২০০-র বেশি মার্কিন সেনা নিহত, দাবি আইআরজিসির
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধাবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ঘাঁটিতে হামলায় ধ্বংসযজ্ঞের দৃশ্য। (ছবি: সংগৃহীত)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হরমুজ প্রণালির সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে চরম উত্তেজনার জেরে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক সংঘাত আবার মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অর্জিত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই দুই পরাশক্তির মধ্যে বিধ্বংসী পাল্টাপাল্টি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চলছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৮ জুলাই যুদ্ধবিরতি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল ঘোষণা করার পর মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও আকাশসীমা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

আজ রোববার (২৬ জুলাই) ইরানের স্বনামধন্য গণমাধ্যম 'তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে' প্রকাশিত আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবির এক সাক্ষাৎকার সূত্রে এসব বিস্ফোরক তথ্য জানা গেছে।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দিতে তারা ‘অপারেশন নাসর-২’ নামের ১৫ দিনব্যাপী এক সমন্বিত ও কৌশলগত আক্রমণাত্মক অভিযান পরিচালনা করেছে। উক্ত অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত অন্তত ৮টি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে একটি ঘাঁটির প্রায় ২০টি বোমারু বিমান ও সামরিক হ্যাঙ্গার সম্পূর্ণরূপে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

সামরিক সরঞ্জাম ও যুদ্ধবিমানের ক্ষয়ক্ষতি:

আইআরজিসির তথ্যমতে, ইরানের এই প্রবল ক্ষেপণাস্ত্র হানায় পেন্টাগনের শত কোটি ডলারের সামরিক সম্পদ ছাই হয়ে গেছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

  • বিমান ও হেলিকপ্টার: ১১টি সর্বাধুনিক যুদ্ধবিমান ও গানশিপ হেলিকপ্টার, ৪টি ভারি সামরিক হেলিকপ্টার, উন্নত হ্যাঙ্গারে সুরক্ষিত একটি এফ-১৫ (F-15) যুদ্ধবিমান, একটি পি-৮ পোসেইডন সামুদ্রিক টহল বিমান এবং একটি বৃহদাকার সি-১৭ গ্লোবমাস্টার সামরিক পরিবহন বিমান।

  • ড্রোন ও রিফুয়েলার: ১৭টি নজরদারি ড্রোন এবং আকাশে বিমানকে জ্বালানি সরবরাহকারী ৮টি ট্যাংকার বিমান।

  • রাডার প্রযুক্তি: ৬টি অত্যাধুনিক প্যাট্রিয়ট রাডার ইউনিট, ৮টি আগাম সতর্কীকরণ রাডার, ৭টি আকাশ প্রতিরক্ষা দূরপাল্লার রাডার এবং ৩টি স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র।

অবকাঠামোগত ও প্রযুক্তিগত ক্ষতি:

হামলায় ৬টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের হ্যাঙ্গার, ১৭টি অস্ত্রভাণ্ডার, ১২টি জ্বালানি ট্যাংক এবং একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ডেটা প্রসেসিং হাবসহ আমাজন ডেটা নোড ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

‘২০০-এর বেশি মার্কিন সেনা নিহত’:

হোয়াইট হাউস ও মার্কিন মূলধারার গণমাধ্যমে প্রকাশিত হতাহতের তথ্যকে সম্পূর্ণ 'ভিত্তিহীন ও ভুয়া' বলে উড়িয়ে দিয়ে আইআরজিসির মুখপাত্র জানান, তাদের ‘অপারেশন নাসর-২’-এর সরাসরি আঘাতে ২০০ জনেরও বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আহতের সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি। ক্ষয়ক্ষতির আসল তথ্য গোপন না করে সত্যতা যাচাইয়ে আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু হওয়া মার্কিন ঘাঁটিগুলো পরিদর্শনের সুযোগ দিতে ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তবে আইআরজিসির এই বিশাল ক্ষয়ক্ষতির দাবি ও সেনা নিহতের খবরের বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন বা পেন্টাগনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো স্বীকৃতি বা মন্তব্য করা হয়নি।

মন্তব্য করুন