বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে সাড়ে তিন বছরে সর্বোচ্চ: এফএও

প্রকাশ: বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪৩ অপরাহ্ণ
বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে সাড়ে তিন বছরে সর্বোচ্চ: এফএও
আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতীকী চিত্র।

অনলাইন ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার ধাক্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম হু হু করে বাড়ছে। এর প্রভাবে বৈশ্বিক খাদ্য মূল্যসূচক বেড়ে বিগত সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছেছে। প্রধান খাদ্যশস্যের উৎপাদন হ্রাস পাওয়া এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে চরম বিঘ্ন ঘটায় গম, ভোজ্যতেল ও চিনির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার এখন চরম ঊর্ধ্বমুখী। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সাম্প্রতিক পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে রয়টার্স, আনাদোলু এজেন্সি ও হেলেনিক শিপিং নিউজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এফএওর পরিসংখ্যান ও প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত জুলাই মাসে বৈশ্বিক খাদ্যের গড় মূল্যসূচক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩১ দশমিক ১ পয়েন্টে। এটি ঠিক আগের মাস জুনের তুলনায় দশমিক ৬ শতাংশ এবং গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ১ শতাংশ বেশি। মূলত ২০২৩ সালের জানুয়ারির পর থেকে এটিই খাদ্যের সর্বোচ্চ গড় মূল্যসূচক। তবে স্বস্তির খবর হলো, ২০২২ সালের মার্চে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর দিকে খাদ্যপণ্যের দাম যে রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছিল, বর্তমান সূচকটি এখনো তার চেয়ে ১৮ দশমিক ২ শতাংশ নিচে রয়েছে।

এফএও জানিয়েছে, জুলাই মাসে মূলত শস্য, ভোজ্যতেল ও চিনির অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির কারণেই সার্বিক সূচকটিতে এই বড় লাফ দেখা গেছে। যদিও একই সময়ে বাজারে মাংস এবং দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের দামে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ করা গেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কেবল জুলাই মাসেই শস্যের মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১১৩ দশমিক ৮ পয়েন্টে গিয়ে ঠেকেছে। কৃষ্ণ সাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ চলমান থাকায় বন্দর অবকাঠামোর ক্ষতি ও রফতানি ব্যাহত হওয়ায় গমের দাম এক লাফে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, উৎপাদনকারী প্রধান দেশগুলোতে তীব্র তাপপ্রবাহ ও যুক্তরাষ্ট্রে খরার কারণে ভুট্টার দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে বৈশ্বিক বাজারে চালের দাম এখনো কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে।

অন্যান্য পণ্যের মধ্যে জুলাইয়ে ভোজ্যতেলের দর ২ শতাংশ বেড়ে গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ উচ্চতা স্পর্শ করেছে। পাম অয়েল ও সয়াবিন তেলের আকাশচুম্বী দামের কারণেই ভোজ্যতেলের বাজারে নতুন সংকট দেখা দিয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার বায়োডিজেল খাতে অতিরিক্ত চাহিদা পাম অয়েলের বাজার উসকে দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বেশি থাকায় সয়াবিন তেলের দাম চড়া রয়েছে। এ ছাড়া ইউরোপ ও এশিয়ায় বৈরী আবহাওয়া ও খরার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় চিনির দাম বেড়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

এফএও সতর্ক করে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব ইউরোপের যুদ্ধ এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বৈরী আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তা ফের মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

মন্তব্য করুন