অরুণাচলের ২৭ স্থানের নাম বদল, ভারতের পদক্ষেপে চীনের কড়া বার্তা
সীমান্তবর্তী অরুণাচল প্রদেশের ২৭টি স্পর্শকাতর ভৌগোলিক স্থানকে ভারতীয় মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করে নিজেদের প্রচলিত ভারতীয় নামে চিহ্নিত করার পর নয়াদিল্লির ওপর চটেছে বেইজিং। ভারতের এই একতরফা পদক্ষেপকে ‘আত্মপ্রবঞ্চনা’ এবং দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের পরিপন্থী হিসেবে আখ্যা দিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।
রোববার (৯ আগস্ট) চীনের শাসক দল কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র ‘গ্লোবাল টাইমস’-এ প্রকাশিত এক কড়া প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত অরুণাচল প্রদেশের ২৭টি স্থানের নাম একতরফাভাবে পরিবর্তন ও নির্ধারণ করে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে, যা দুই দেশের সামগ্রিক কূটনৈতিক স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিচ্ছে।
প্রতিবেদনে চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক চিয়ান ফেংকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, "ভারতের উচিত ছিল এই সীমান্ত বিবাদকে বড় কোনো সংঘাতের দিকে না ঠেলে সংযম দেখানো। কিন্তু এ ধরনের মানচিত্র সংশোধনী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত উভয় দেশের রাজনীতি ও সম্পর্কের ইতিবাচক ধারাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।"
এর আগে গত শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে অরুণাচল প্রদেশের একাধিক ভূখণ্ড, পর্বত, গিরিপথ, হ্রদ ও একটি ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভসহ ২৭টি স্থানে তাদের ভারতীয় নাম মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করে ভারত।
উল্লেখ্য, চীনও দীর্ঘদিন ধরে অরুণাচল প্রদেশকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে আসছে। ২০১৭ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত চীন মোট ছয় দফায় অরুণাচলের ১১২টি বিভিন্ন স্থান ও নদীর নাম চীনা ও তিব্বতি ভাষায় নামান্তর করেছে।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসেও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন ঘোষণা করেছিলেন যে, চীন ভারত কর্তৃক সাময়িকভাবে প্রতিষ্ঠিত ‘তথাকথিত’ অরুণাচল প্রদেশকে কোনোভাবেই স্বীকৃতিকাপ করে না।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত আলোচনায় অতিরিক্ত সুবিধা বাগিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ভারত এই একতরফা পদক্ষেপ নিলেও তা দুই দেশের মধ্যে প্রয়োজনীয় ন্যূনতম পারস্পরিক আস্থা ও স্থিতিশীলতাকে পুরোপুরি বিনষ্ট করবে।
|