কলকাতায় বুলডোজার সংস্কৃতি: নিউ মার্কেটে মাংসের দোকান ও তৃণমূল কার্যালয় ধ্বংস

রাকিবুল হাসান
প্রকাশ: বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৩:০১ অপরাহ্ণ
কলকাতায় বুলডোজার সংস্কৃতি: নিউ মার্কেটে মাংসের দোকান ও তৃণমূল কার্যালয় ধ্বংস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর রাজ্যজুড়ে চলা সহিংসতার মাঝেই এবার কলকাতার প্রাণকেন্দ্র তথা হেরিটেজ তকমা পাওয়া নিউ মার্কেট (হগ মার্কেট) এলাকায় নজিরবিহীন ‘বুলডোজার হামলা’র ঘটনা ঘটেছে। গত সোমবার (৪ মে ২০২৬) গভীর রাতে একদল লোক বুলডোজার নিয়ে চড়াও হয়ে একটি মাংসের দোকান এবং তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠনের একটি কার্যালয় গুঁড়িয়ে দেয়। এই ঘটনার ভিডিও ও ছবি ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।

জনবহুল ও ২৪ ঘণ্টা পুলিশের কড়া নজরদারি থাকা এই এলাকায় মাঝরাতে কীভাবে একটি আস্ত বুলডোজার নিয়ে এমন তাণ্ডব চালানো হলো, তা নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সংসদ সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েন সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও পোস্ট করে সরাসরি বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, পুলিশের অনুমতি সাপেক্ষে ওই রাতে বিজেপির একটি বিজয় মিছিল বের করা হয়েছিল এবং সেই মিছিল থেকেই এই সুপরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। ডেরেক আরও দাবি করেন, যখন বুলডোজার দিয়ে হেরিটেজ মার্কেটের অংশ ও কার্যালয়টি ভাঙা হচ্ছিল, তখন কেন্দ্রীয় বাহিনী (সিএপিএফ) পাশেই দাঁড়িয়ে থাকলেও কোনো বাধা দেয়নি। তৃণমূলের দাবি, উত্তর ভারতের ‘বুলডোজার রাজনীতি’ এবার বাংলাতেও আমদানি করার চেষ্টা করছে বিজেপি।

নিউ মার্কেট থানা পুলিশ জানিয়েছে, রাত ১২টার পর এই হামলার ঘটনা ঘটে। বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা বুলডোজারটি ফেলে রেখে চম্পট দেয়। পুলিশ স্পষ্ট করেছে, বিজেপির বিজয় মিছিলের অনুমতি দেওয়া হলেও তাতে বুলডোজার বা কোনো ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের কোনো অনুমতি ছিল না। ট্রাফিক ক্যামেরা এবং নিউ মার্কেটের নিজস্ব সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। বর্তমানে হগ মার্কেটের প্রবেশপথে পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে এবং বাজার এলাকায় টহলদারি জোরদার করা হয়েছে।

বিজেপি এই ঘটনার সাথে তাদের কোনো ধরনের যোগসূত্র থাকার কথা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, “এটি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল হতে পারে। অনেক সময় নিজেদের কার্যালয় নিজেরা ভেঙে বিজেপির ওপর দায় চাপানোর অপচেষ্টা করা হয়।” তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যদি কোনো বিজেপি কর্মী এই ধরনের হিংসাত্মক কাজে জড়িত প্রমাণিত হয়, তবে তাকে তৎক্ষণাৎ দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। তিনি উল্টো দাবি করেন, সদ্য তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া কিছু সুবিধাবাদী লোক অতি-উৎসাহী হয়ে দলটির বদনাম করতে এই কাজ করতে পারে।

কলকাতার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই বাজারে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের আশঙ্কা, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে হেরিটেজ মার্কেটে এই ধরনের হামলা কলকাতার আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করবে। বর্তমানে নিউ মার্কেট এলাকা থমথমে রয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পরিত্যক্ত বুলডোজারটি বাজেয়াপ্ত করেছে।

মন্তব্য করুন