অতিরিক্ত ওজনের কারণ, ঝুঁকি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা

জান্নাতুল ফেরদৌস
প্রকাশ: বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৫:২৪ অপরাহ্ণ
অতিরিক্ত ওজনের কারণ, ঝুঁকি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা

বর্তমানে অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা কেবল ব্যক্তিগত সৌন্দর্যহানির বিষয় নয়, বরং এটি একটি বড় জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশে সব বয়সী মানুষের মধ্যে এই প্রবণতা বাড়ছে। বডি মাস ইনডেক্স (BMI) অনুযায়ী, উচ্চতার তুলনায় ওজন বেশি হওয়া বা স্থূলতা বিভিন্ন জটিল রোগের মূল কারণ।

অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত খাবার (ফাস্টফুড, কোমল পানীয়), প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং রাতে ভারী খাবার খাওয়া।

  • শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা: দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা, ব্যায়ামের অভাব এবং মোবাইল বা টিভির সামনে দীর্ঘ সময় কাটানো।

  • হরমোনজনিত সমস্যা: থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি, পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) এবং কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

  • মানসিক ও সামাজিক কারণ: মানসিক চাপ, অপর্যাপ্ত ঘুম এবং পারিবারিক খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব।

অতিরিক্ত ওজনের ফলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এছাড়া ফ্যাটি লিভার, হাঁটু ও কোমরের ব্যথা, বন্ধ্যত্ব এবং বিষণ্নতার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

প্রতিদিনের ক্যালোরি ৫০০-৭৫০ কিলোক্যালোরি কমানো। প্লেট পদ্ধতিতে অর্ধেক সবজি এবং বাকি অর্ধেক প্রোটিন ও শর্করা রাখা। চিনি ও লবণ কমিয়ে পর্যাপ্ত পানি পান করা। ২. ব্যায়াম: সপ্তাহে অন্তত ১৫০-৩০০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম (দ্রুত হাঁটা বা সাইকেল চালানো) করা। ৩. আচরণ  ধীরে ধীরে খাবার খাওয়ার অভ্যাস করা এবং স্ক্রিন টাইম (টিভি/মোবাইল) কমিয়ে আনা। ৪. চিকিৎসা: প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ বা বিশেষ ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

ওজন নিয়ন্ত্রণ কোনো সাময়িক চেষ্টা নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যকর জীবনধারা। সুস্থ থাকতে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন