ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা কূটনৈতিক সম্পর্কে তীব্র ধস

প্রকাশ: বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা কূটনৈতিক সম্পর্কে তীব্র ধস

অনলাইন ডেস্ক: দক্ষিণ আমেরিকার সর্ববৃহৎ দুই পরাশক্তি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার দ্বিপাক্ষিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কে অভূতপূর্ব ধস নেমেছে। আর্জেন্টিনার ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা ডি সিলভাকে নিয়ে নতুন করে অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্য করায় বুয়েন্স আইরেসে নিজেদের কূটনৈতিক উপস্থিতি আরও কমিয়ে এনেছে ব্রাজিলিয়া।

ব্রাজিলীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, সম্প্রতি একাধিক জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রেসিডেন্ট লুলাকে 'চোর' বলে আখ্যা দেন আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্ট মিলেই। দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিভিন্ন কূটনৈতিক চেষ্টার মধ্যে তাঁর এই অব্যাহত কটু মন্তব্য দুই দেশের সম্পর্কে এক বড় ধরনের ধাক্কা দিল।

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে চরম ডানপন্থী নেতা হাভিয়ের মিলেই আর্জেন্টিনার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক ও নীতিগত টানাপোড়েন শুরু হয়। চলতি বছরের জুলাইয়ে একটি রাজনৈতিক মঞ্চে লুলার তীব্র সমালোচনা করার পর ব্রাজিলের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত হুলিও বিতেলিকে বুয়েনস আইরেস থেকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করে নিয়েছিল ব্রাজিল সরকার। এরপর থেকে বুয়েনস আইরেসে ব্রাজিলের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন একজন জ্যেষ্ঠ চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স। তবে এবার ব্রাজিলীয় কর্মকর্তারা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট লুলার বিরুদ্ধে মিলেই আক্রমণাত্মক ও অবমাননাকর বক্তব্য বন্ধ না করা পর্যন্ত বুয়েনস আইরেসে স্থায়ী কোনো রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেবে না ব্রাজিলিয়া।

সম্প্রতি ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও ট্রাম্পঘনিষ্ঠ নেতা জেইর বলসোনারোর ছেলে সিনেটর ফ্ল্যাভিও বলসোনারো আয়োজিত একটি রাজনৈতিক সম্মেলনে যোগ দেন মিলেই। সেখানে তিনি লুলার তীব্র সমালোচনা করার পাশাপাশি ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের প্রভাবশালী বিচারপতি আলেকজান্দ্রে দে মোরেসকেও কটু ভাষায় আক্রমণ করেন। উল্লেখ্য, অভ্যুত্থানচেষ্টার মামলায় ২৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত বলসোনারোর সাথে কারাগারে দেখা করার জন্য মিলেই যে আবেদন জানিয়েছিলেন, তা সম্প্রতি খারিজ করে দেন ওই ব্রাজিলীয় বিচারপতি।

আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্টের এই বিতর্কিত বক্তব্যের পর ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা ডি সিলভা নিজে ব্যক্তিগতভাবে কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকলেও, দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর (ইতামারাতি) অত্যন্ত কড়া কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

অন্যদিকে, দুই প্রতিবেশীর এই কূটনৈতিক টানাপোড়েন দক্ষিণ আমেরিকার আঞ্চলিক রাজনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলছে। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থানের কারণেও ওয়াশিংটনের সাথে ব্রাজিলিয়ার দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে, আগামী নির্বাচনকে ঘিরে ব্রাজিলের ক্ষমতাসীন দল 'ওয়ার্কার্স পার্টি' বিদেশি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তিত, আর ঠিক তখনই বুয়েনস আইরেস ও ওয়াশিংটনের সাথে দেশটির দূরত্ব ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

মন্তব্য করুন