আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার থেকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে তিন দিনের একটি অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন। এই উদ্যোগটি দীর্ঘ চার বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধে একটি স্থায়ী চুক্তির পথ সুগম করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। উভয় দেশই এই যুদ্ধবিরতি এবং বড় আকারের বন্দি বিনিময়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ জানান, ৯, ১০ ও ১১ মে এই তিন দিন যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে। তিনি বলেন, “আমি সরাসরি এই অনুরোধ জানিয়েছিলাম এবং প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এতে একমত হওয়ায় আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।” চুক্তির অংশ হিসেবে উভয় পক্ষ থেকে এক হাজার করে মোট দুই হাজার বন্দি বিনিময় করা হবে। উল্লেখ্য, গত বছর দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ট্রাম্প একদিনে এই যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিলেও চার বছরের এই জটিলতা নিরসনে তাকে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে।
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত শুক্রবার উভয় দেশের মধ্যে তীব্র হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত ছিল। রাশিয়া তাদের ৯ মে-র বিজয় দিবস (ভিক্টরি ডে) উপলক্ষে দুই দিনের একতরফা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিল, যাকে ইউক্রেন ‘প্রোপাগান্ডা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে। ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর মতে, রাশিয়া রাতভর ৬৭টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, রাশিয়া দাবি করেছে যে তারা ৪০০-এর বেশি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
পুতিনের জন্য ৯ মে-র বিজয় দিবস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জাতীয় অনুষ্ঠান। ইউক্রেন এই প্যারেডে বিঘ্ন ঘটাতে পারে এমন আশঙ্কায় রাশিয়া হুমকি দিয়েছে যে, হামলা হলে কিয়েভের কেন্দ্রে বড় ধরনের আক্রমণ চালানো হবে। গত দুই দশকের মধ্যে এই প্রথমবার রাশিয়ার বিজয় দিবসের প্যারেডে কোনো সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শিত হবে না এবং বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতিও থাকবে নগণ্য। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি রাশিয়ার মিত্র দেশগুলোকে এই প্যারেডে অংশ না নিতে সতর্ক করেছেন।
সূত্র: টিআরটি উর্দু।
এ.আই.এল/সকালবেলা