নিজস্ব প্রতিবেদক: গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা ও নাগরিক অধিকারের পরিসর যত ছোট হবে, গণমাধ্যম তত বেশি চাপের মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।
শনিবার (৯ মে) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সাংবাদিকতা বিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। বর্তমানে ব্যবসা ও রাজনীতির মধ্যে যে গভীর যোগসাজশ তৈরি হয়েছে, তা শুধু সুশাসনকেই ব্যাহত করছে না, গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধেও বড় ভূমিকা রাখছে। তিনি উল্লেখ করেন, ব্যবসায়ীরা রাজনীতিতে এলে সমস্যা নেই, কিন্তু রাজনীতি যখন নিজেই লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়, তখন শাসনব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে।
আলোচনায় উঠে আসে যে, রাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো গণমাধ্যমও এখন আর পুরোপুরি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। পুুঁজি, ধর্ম এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার একচেটিয়া প্রভাবের কারণে মিডিয়া মালিকানা ও সংবাদ পরিবেশনে স্বার্থান্বেষী মহলের হস্তক্ষেপ বাড়ছে। দেশের প্রচলিত ‘হার-জিতের রাজনৈতিক সংস্কৃতি’র কারণে ভিন্নমত নিয়ন্ত্রণ এবং তথ্যপ্রবাহ সীমিত করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকরা কীভাবে বিভিন্ন কঠোর আইনের মারপ্যাঁচে হয়রানির শিকার হচ্ছেন, সে বিষয়টিও গুরুত্ব পায় আলোচনায়। শত শত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা ও ডিজিটাল নিরাপত্তার মতো কঠোর আইনের ব্যবহারের কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কেবল সাংবাদিকদের অধিকার নয়, বরং এটি মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
‘বাংলাদেশ জার্নালিজম কনফারেন্স ২০২৬’ শীর্ষক এই আয়োজনে দেশি-বিদেশি জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সম্পাদকরা অংশ নেন এবং বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে গণমাধ্যমের চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা করেন।