বিনোদন ডেস্ক : ঢাকাই চলচ্চিত্রের শীর্ষ তারকা দম্পতিদের ব্যক্তিগত জীবন, সন্তান এবং তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সাধারণ দর্শক ও ভক্তদের মাঝে কৌতুহলের শেষ নেই। আর সেই কৌতুহলের কেন্দ্রবিন্দুতে যদি থাকে ঢালিউড কিং শাকিব খান এবং গ্ল্যামার কুইন অপু বিশ্বাসের বড় ছেলে আব্রাম খান জয়, তবে তো কথাই নেই। সম্প্রতি এক বিশেষ টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়ে ছেলে জয়ের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার এবং এই নিয়ে বাবা শাকিব খানের সাথে তাঁর মতাদর্শের পার্থক্যের বিষয়টি অত্যন্ত অকপটে ও স্পষ্টভাবে সামাজিক মাধ্যমে তুলে ধরেছেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস।
আজ রবিবার (৩১ মে) সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে প্রকাশিত এক বিশেষ বিনোদন প্রতিবেদনে শাকিব-অপুর একমাত্র পুত্রের ভবিষ্যৎ জীবনের এই অজানা তথ্যটি জনসমক্ষে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পৃথিবীর আর দশটা সাধারণ বাবা-মায়ের মতোই নিজেদের একমাত্র সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং সুন্দর জীবন নিয়ে সবসময়ই সুনির্দিষ্ট চিন্তাভাবনা করে থাকেন শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস। অভিনয়ের প্রচণ্ড ব্যস্ততার মাঝেও সন্তানের দেখভাল ও পড়াশোনার খোঁজখবর নিয়মিত রাখেন এই সাবেক তারকা জুটি। তবে সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সঞ্চালকের পক্ষ থেকে প্রশ্ন রাখা হয়েছিল— ‘আব্রাম খান জয়ের বাবা-মা আসলে ছেলেকে ভবিষ্যতে কোন চকমিলানো ক্যারিয়ারে দেখতে চান?’
এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা অপু বিশ্বাস সরাসরি জানান, জয়ের ক্যারিয়ার নিয়ে শাকিব খানের মনের সুপ্ত ইচ্ছাটি কী। অপু বলেন, ‘ওর বাবা (শাকিব খান) বরাবরই মনেপ্রাণে চায় জয় যেন তাঁর মতোই একজন বড় পর্দার সফল নায়ক হোক।’ তবে শাকিব খানের এই চিরন্তন ইচ্ছার সাথে মা হিসেবে অপু বিশ্বাসের রয়েছে সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী অবস্থান ও তীব্র অমত।
অপু বিশ্বাস নিজের ইচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করে সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমি আমার ছেলেকে একদমই চলচ্চিত্রের নায়ক হিসেবে দেখতে চাই না। এই বিষয়ে আমি এর আগেও অনেক জায়গায় ইন্টারভিউতে বলেছি, আজ আবারও পরিষ্কার করে বলতে চাই— আমার পরলোকগত মা (জয়ের নানী) সবসময় মনেপ্রাণে চেয়েছিলেন জয় যেন বড় হয়ে একজন মানবসেবী ডাক্তার হয়। এটি মায়ের চাওয়া ছিল এবং মা হিসেবে এটি আমার নিজেরও একমাত্র বড় চাওয়া।”
ভবিষ্যৎ পেশা বা ক্যারিয়ার নিয়ে সাড়ে ৯ বছর বয়সী ছোট জয়ের নিজস্ব ভাবনা কেমন— এমন প্রশ্নের জবাবে মা অপু বিশ্বাস কিছুটা হেসে বলেন, “জয় তো আসলে এখন একেক সময় একেক রূপকথার মতো কথা বলে। ও এখনও অনেক ছোট। কখনো তার মনে হয় সে বাবার মতো বড় নায়ক হবে, কখনো টিভিতে গান দেখে বলে সে বড় গায়ক হবে, আবার কখনো আমার কথা শুনে বলে সে ডাক্তার হবে। কিছুদিন আগে আবার বলছিল সে বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হবে। আসলে সে এখনও নিজে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি যে কোনটা তার জীবনের জন্য সবচেয়ে গুড চয়েস হবে।”
ছেলের এই দোদুল্যমানতা নিয়ে একজন সচেতন ও যত্নশীল মায়ের মতো অপু বিশ্বাস আরও যোগ করেন, “দেখা যাক ও ভবিষ্যতে কী হতে চায়। ওর বয়স এখন মাত্র সাড়ে ৯ বছর। তাই ক্যারিয়ার নিয়ে এখনই তাকে জোর না করে আমাদের একটু সময় দেওয়া উচিত। ও যখন আরেকটু বড় ও পরিপক্ক হবে, তখন নিশ্চয়ই ও নিজে থেকে কী হতে চায়, সেটি আমাকে স্পষ্টভাবে জানাতে পারবে। তবে ও যা-ই হোক না কেন, ও যেন একজন ভালো মানুষ হয়, এটাই আমাদের মূল প্রার্থনা।”
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল সম্পূর্ণ গোপনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন ঢালিউডের এই সময়ের সবচেয়ে সফল অনস্ক্রিন জুটি শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর কলকাতার একটি হাসপাতালে জন্ম হয় আব্রাম খান জয়ের। দীর্ঘ আট বছরেরও বেশি সময় ধরে লোকচক্ষুর অন্তরালে গোপনে সংসার করার পর, ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে হঠাৎ করেই একদিন একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে সন্তান জয়কে কোলে নিয়ে লাইভ অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে বিয়ের খবর প্রকাশ করেন অপু বিশ্বাস, যা তৎকালীন সময়ে দেশের বিনোদন জগতে সবচেয়ে বড় তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল। বর্তমানে শাকিব ও অপুর বিচ্ছেদ হয়ে গেলেও ছেলে জয়ের সমস্ত সুন্দর দায়িত্ব যৌথভাবেই পালন করছেন এই দুই তারকা।
জান্নাত সকালাবেলা