রূপালি পর্দায় পা রাখছেন আদনান আল রাজীব
বিনোদন ডেস্ক:দেশের বিজ্ঞাপন ও ছোটপর্দার সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত নির্মাতা আদনান আল রাজীব এবার পা রাখছেন বড় পর্দায়। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য কালজয়ী ও প্রশংসিত বিজ্ঞাপন এবং ফিকশন উপহার দিলেও এই প্রথম একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র পরিচালনা করতে যাচ্ছেন তিনি। গতকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অফিশিয়াল হ্যান্ডেলে দীর্ঘদিনের লালিত এই স্বপ্নের কথা ভক্ত ও সহকর্মীদের সাথে শেয়ার করেছেন এই গুণী নির্মাতা।
আজ শুক্রবার (১২ জুন) সকালে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘চলচ্চিত্র নির্মাণ, সেলুলয়েডের গল্প ও নাট্যশৈলী খতিয়ান’ এবং ‘তারকা কথন, বিনোদন দুনিয়া ও মিডিয়া লজিস্টিকস উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে আদনান আল রাজীবের প্রথম সিনেমার এই খতিয়ান বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
নিজের বিজ্ঞাপন ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে আদনান আল রাজীব তার আবেগঘন পোস্টে লেখেন, “অ্যাডভার্টাইজিং ক্যারিয়ারের একেবারে শুরুর দিকে একটা প্রেমের গল্প বানিয়েছিলাম ‘কাছে আসার গল্প’। সেই সময়ের হিসেবে ওটাই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় হিট। সেখান থেকেই মনের ভেতর একটা স্বপ্ন জন্মেছিল, কোনো একদিন একটা বড় পর্দার প্রেমের সিনেমা বানাবো।” তিনি আরও যোগ করেন, “দেখতে দেখতে অনেক বছর কেটে গেল। এর মধ্যে অনেক গল্প বলেছি। অনেক চরিত্র এসেছে, আবার চলে গেছে। কিন্তু নিজের মতো করে একটা পিওর প্রেমের গল্প খুঁজে ফিরেছি সবসময়। এমন একটা গল্প, যেটা সত্যি আমার।”
সিনেমার চিত্রনাট্য বা গল্প তৈরি করার পেছনে তার দীর্ঘ বছরের প্রতীক্ষা ও ভালোবাসার গভীরতার কথা উল্লেখ করে এই নির্মাতা বলেন, “গল্পগুলো অনেকটা ভালোবাসার মানুষের মতো। কেউ কেউ হঠাৎ এসে দরজায় কড়া নাড়ে। কেউ আসে না, দূরে বসে থাকে। আমার গল্পটাও তেমন ছিল, চুপচাপ বসে ছিল। আমিও চুপচাপ তার পাশে বসে ছিলাম। লিখেছি। কেটেছি। আবার লিখেছি। হঠাৎ একদিন খেয়াল করলাম, গল্পটা আর দূরে বসে নেই। ধীরে ধীরে আমার পাশে এসে বসেছে। গল্পটা এখন স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। আমার জীবনের প্রথম সিনেমা বানাতে যাচ্ছি। দেখা হবে সিনেমা হলে।”
উল্লেখ্য, আদনান আল রাজীব কেবল দেশীয় বাজারেই নন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বেশ প্রশংসিত। গত বছর বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ কান চলচ্চিত্র উৎসবে ইতিহাস গড়েছিল তার পরিচালিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আলী’। প্রথম বাংলাদেশি শর্টফিল্ম হিসেবে এটি কানের মূল প্রতিযোগিতার ‘স্বর্ণপাম’ (Palme d'Or) লড়াইয়ে সামিল হয়েছিল এবং বিশেষ সম্মাননা (Special Mention) জিতে নিয়েছিল। এরপর আরও একাধিক আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রদর্শিত ও পুরস্কৃত হয়েছে ছবিটি। কানের সেই আন্তর্জাতিক সাফল্যের পর রাজীবের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা নিয়ে রুপালি জগতের সহকর্মী ও ভক্ত-অনুরাগীদের মাঝে তুমুল আগ্রহ ও উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। সিনেমাটির নাম ও কাস্টিং দ্রুতই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে বলে আভাস পাওয়া গেছে।
জান্নাত সকালবেলা