বাজেটে কৃষক কার্ডে আড়াই হাজার টাকা নগদ সহায়তার প্রস্তাব

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ০৪:১১ অপরাহ্ণ
বাজেটে কৃষক কার্ডে আড়াই হাজার টাকা নগদ সহায়তার প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক:দেশের কৃষি খাতকে সমৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে রূপান্তর এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় আধুনিক রাষ্ট্রীয় সুবিধা পৌঁছে দিতে এক অনন্য জনকল্যাণমুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকদের সুরক্ষায় চালু হওয়া ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় প্রতি বছর একবার করে ২ হাজার ৫০০ টাকা সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়ার আইনি প্রস্তাব করা হয়েছে। এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে মোট ১ হাজার ৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা নগদ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৪টায় অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘সামষ্টিক অর্থনীতি, কৃষি ঋণ ও গ্রামীণ উৎপাদন খতিয়ান’ এবং ‘বাজেট ঘাটতি, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও ব্যাংক ঋণ উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে কৃষকদের এই বিশাল প্রাপ্তি ও সামগ্রিক বাজেটের মূল খতিয়ান বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

আজ বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি উপস্থিতিতে বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রথম এবং দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, “কৃষিকে জাতীয় সমৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত করা আমাদের সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। কৃষি খাতে মৌলিক গুণগত পরিবর্তন আনা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় দ্রুত ১০টি মৌলিক সেবা পৌঁছে দিতে চলতি বছরের পহেলা বৈশাখে ঐতিহাসিক ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির সূচনা করা হয়েছে।”

তিনি সংসদকে অবহিত করেন, আগামী অর্থবছরে প্রথম পর্যায়ে দেশের ১০০টি উপজেলায় মোট ৪২ লাখ ৫০ হাজার প্রান্তিক চাষিকে এই ডিজিটাল কৃষক কার্ড প্রদান করা হবে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি প্রান্তের সব প্রকৃত কৃষককে এই কার্ডের আওতায় নিয়ে আসার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

কৃষকদের জন্য নগদ সহায়তার পাশাপাশি আরেকটি বড় চমক হিসেবে নির্বাচনী ইশতেহারের শতভাগ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করেছে নতুন সরকার। অর্থমন্ত্রী জানান, নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের ক্ষুদ্র চাষিদের সুবিধার্থে শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে নেওয়া সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সমস্ত কৃষি ঋণের আসল ও সুদসহ সম্পূর্ণ মওকুফ করার ঐতিহাসিক কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এই বিশাল ঋণ মওকুফ কর্মসূচির আর্থিক দায় মেটাতে চলতি নতুন অর্থবছরে ১ হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা থোক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ মূল প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পেশ করা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত এই বিশাল জাতীয় বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে সরকারের মোট অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে সামগ্রিক বাজেটে মোট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই বিশাল বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক—উভয় উৎসের ওপর সুষমভাবে নির্ভর করার পরিকল্পনা সাজিয়েছে। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনুদান খাত থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের সিংহভাগ অর্থাৎ ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হবে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ঋণ হিসেবে এবং বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য সরকারি খাত থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন বাজেটে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির (GDP) সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা। এছাড়া আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নতুন অর্থবছরে দেশের বর্তমান লাগামহীন মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট সামষ্টিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। নিয়মানুযায়ী, সংসদে উপস্থাপনের ঠিক আগে আজ দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত বিশেষ মন্ত্রিসভায় বাজেটটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয় এবং পরবর্তীতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এতে আনুষ্ঠানিক সম্মতি স্বাক্ষর প্রদান করেন।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন