‘কালো জামাই’, ‘লাল বাদশাহ’ ও ‘টাইগাররা’ গাবতলীর হাটে
নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় আজ রবিবার (২৪ মে) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বসছে ২১টি অস্থায়ী পশুর হাট। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) ১১টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) ১০টি অস্থায়ী হাট বসবে। তবে এর আগেই ডিএনসিসির একমাত্র স্থায়ী পশুর হাট গাবতলীতে জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশুর বেচাকেনা।
এবারের গাবতলী হাটের মূল আকর্ষণ ফ্রিজিয়ান জাতের দানবীয় দুই ষাঁড় ‘কালো জামাই’ ও ‘সাদা জামাই’। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থেকে খামারি ইয়াকুব আলী ষাঁড় দুটি হাটে এনেছেন। ১ হাজার ৫০০ কেজি ওজনের ‘কালো জামাই’ এর দাম হাঁকা হচ্ছে ৫৫ লাখ টাকা এবং ১ হাজার৩০০ কেজি ওজনের ‘সাদা জামাই’ এর দাম চাওয়া হচ্ছে ৪৫ লাখ টাকা। পাঁচ বছর ধরে লালন-পালন করা এই ষাঁড় দুটির পেছনে প্রতি মাসে খরচ ৩৬ হাজার টাকা।
হাটে ব্রাহমা জাতের ১ হাজার ১০০ কেজি ওজনের আরেকটি বিশাল ষাঁড় ‘লাল বাদশাহ’র দাম চাওয়া হচ্ছে ৫০ লাখ টাকা। চুয়াডাঙ্গার ব্যাপারী জিয়াউর রহমান ৪৬টি গরু নিয়ে হাটে এসেছেন, যার মধ্যে সর্বনিম্ন গরুর দাম ৪ লাখ টাকা। এছাড়া বাগেরহাট থেকে আসা ব্রাহমা জাতের ‘সম্রাট বাবু’র দাম চাওয়া হচ্ছে ২৮ লাখ টাকা এবং কুষ্টিয়া থেকে আসা ‘নবাব’ এর দাম ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
গরুর পাশাপাশি গাবতলীর হাটে নজর কাড়ছে ২৫ লাখ টাকা দামের মহিষ ‘টাইগার’। ১ হাজার কেজি ওজনের এই মহিষটি কেরানীগঞ্জ থেকে এনেছেন খামারি মো. মজিবর রহমান। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, কেউ ‘টাইগার’ কিনলে তাকে একটি ‘ভুট্টি’ (ছোট আকারের গরু) উপহার দেওয়া হবে।
হাটে রংপুর থেকে বিসমিল্লাহ অ্যাগ্রো পাঁচটি দুম্বা নিয়ে এসেছে। এর মধ্যে দুটির দাম চাওয়া হচ্ছে ৫ লাখ টাকা করে এবং বাকি তিনটির দাম সাড়ে ৪ লাখ টাকা। ১ লাখ টাকা দামের যমুনাপারি জাতের একটি বড় ছাগলও নজর কাড়ছে ক্রেতাদের, যার লাইভ ওয়েট ১৪০ কেজি। এছাড়া হারুন শেখ নামের এক ব্যাপারী ‘মধু’ ও ‘হীরা’ নামের দুটি ছাগলের দাম চাচ্ছেন যথাক্রমে ৭৫ ও ৭০ হাজার টাকা। তিনি ইতিমধ্যে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা মূল্যের ২৫টি ছোট ছাগল বিক্রি করেছেন।
হাটে বর্তমানে ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা মূল্যের ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা ও বিক্রি সবচেয়ে বেশি। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, এবার পশুর দাম তুলনামূলক বেশি চাওয়া হচ্ছে। মিরপুর থেকে আসা এক ক্রেতা জানান, পাঁচ মণ ওজনের একটি গরুর দাম ৩ লাখ টাকা চাওয়া হচ্ছে, যা অন্যায্য।
অন্যদিকে খামারি ও ব্যাপারীরা বলছেন, পশুখাদ্যের বাড়তি দাম, শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি এবং তীব্র গরমে সার্বক্ষণিক ফ্যান চালানোর কারণে বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যাওয়ায় পশুর দাম কিছুটা বেশি। কুষ্টিয়ার ব্যাপারী আল আমিন জানান, এক লাখ টাকার নিচে তাঁর কাছে কোনো গরু নেই এবং বাড়তি দামে বিক্রি করতে না পারলে লোকসান হবে।
ব্যাপারীদের প্রত্যাশা, আজ রবিবার থেকে হাটে বেচাকেনা আরও বাড়বে এবং আগামী মঙ্গল ও বুধবার মূল বেচাকেনা সম্পন্ন হবে।
|