প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ দফা অগ্রাধিকার ঘোষণা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ
প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ দফা অগ্রাধিকার ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক: প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন এবং সামগ্রিক সংস্কার কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে শিক্ষাক্রম, শিক্ষক, প্রশাসনিক তদারকি, অবকাঠামো এবং প্রযুক্তি—এই পাঁচটি মৌলিক বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সরকার আগামী ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকেই একটি যুগোপযোগী নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

গতকাল সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং ইউনিসেফের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘মাঠপর্যায় থেকে সংস্কার: বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক এক জাতীয় সংলাপ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিটি ক্ষেত্র একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শিক্ষা ব্যবস্থার কোনো একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রের উন্নয়ন ঘটিয়ে বাকিগুলোকে উপেক্ষা করলে কখনোই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করা সম্ভব নয়। তাই মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই আমাদের সমন্বিত সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে।”

নতুন শিক্ষাক্রমের রূপরেখা তুলে ধরে তিনি জানান, বাংলা, গণিত এবং ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মূল দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আনন্দদায়ক শিখন নিশ্চিত করতে খেলনাভিত্তিক শিক্ষা, ডিজিটাল কনটেন্ট ও প্রায়োগিক শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দৈনিক শিখন-সময়ের বৈষম্য কমিয়ে আনা এবং দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য একটি অভিন্ন মানদণ্ড নির্ধারণের কাজ চলছে।

শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন ও মর্যাদার বিষয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষকদের সঠিক নিয়োগ প্রক্রিয়া, প্রাক্‌-চাকরি প্রশিক্ষণ, যথাযথ পদায়ন, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং নিয়মিত মূল্যায়ন—এই সমস্ত বিষয়কে একত্রে সমন্বিত করে একটি সুসংহত ‘শিক্ষক নীতিমালা’ প্রণয়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি বলেন, দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের স্কুল থেকে ঝরে পড়ার হার পুরোপুরি রোধ করতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা, সম্মানজনক বেতন-ভাতা এবং পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতে পর্যায়ক্রমে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। বর্তমান সরকারের প্রথম অর্থবছরে এই খাতে মোট জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের সার্বিক প্রস্তুতির পাশাপাশি শিক্ষকসংকট দূর করা এবং শিক্ষকদের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর তিনি জোর দেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরীসহ বিভিন্ন সরকারি মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা, দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।