ডেমোক্র্যাটরা জিতলে ফ্রান্সে দাঙ্গার মতো সহিংস অস্থিরতা দেখবে যুক্তরাষ্ট্র: ডোনাল্ড ট্রাম্প

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ
ডেমোক্র্যাটরা জিতলে ফ্রান্সে দাঙ্গার মতো সহিংস অস্থিরতা দেখবে যুক্তরাষ্ট্র: ডোনাল্ড ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে রিপাবলিকান পার্টির অবস্থান শক্ত করতে মরিয়া হয়ে ময়দানে নেমেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় সোমবার কানসাস অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান সিনেটর রজার মারশালের পক্ষে এক বিশাল নির্বাচনী প্রচার সমাবেশে অংশ নিয়ে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ডেমোক্র্যাটরা যদি আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়, তবে ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সংকট কেন্দ্র করে যে ধরনের সহিংস দাঙ্গা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, যুক্তরাষ্ট্রেও ঠিক তেমনি চরম অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের দুর্গ হিসেবে পরিচিত কানসাসে এবার দলের প্রার্থী রজার মারশালের সঙ্গে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিলটনের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভোটারদের মধ্যে ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় রক্ষণশীল এই রাজ্যে রিপাবলিকান প্রার্থীরা বেশ ভালো রকমের চাপে রয়েছেন।

সমাবেশে ইউরোপের দেশ ফ্রান্সের সাম্প্রতিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসন্তোষের প্রসঙ্গ টেনে আনেন ট্রাম্প। ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি সেবায় ঘাটতির জেরে হওয়া বিক্ষোভের একটি অংশ কীভাবে পরবর্তী সময়ে ধ্বংসাত্মক দাঙ্গা ও লুটপাটে রূপ নিয়েছিল, তা উল্লেখ করেন তিনি।

সমাবেশে উপস্থিত হাজার হাজার সমর্থকের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, “ফ্রান্সে যখন গির্জার চূড়ায় আগুন জ্বলতে এবং চারদিকে আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পাবে, তখন মনে রেখো—কট্টর ডেমোক্র্যাটরা আমেরিকার সঙ্গে ঠিক এমনটাই ঘটাতে চায়। তবে আমরা আমাদের প্রিয় দেশে এমনটি কখনো ঘটতে দেব না।” ডেমোক্র্যাটদের কটাক্ষ করতে তিনি ‘ডুমোক্র্যাটস’ শব্দটি ব্যবহার করেন এবং অভিবাসী ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী সম্পর্কে তাঁর পরিচিত রক্ষণশীল ও কড়া মন্তব্যগুলো পুনরাবৃত্তি করেন।

কানসাসের উইচিটা শহরের নিকটবর্তী পার্ক সিটিতে আয়োজিত এই সমাবেশে যোগ দিতে এসে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে তীব্র ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে। সমাবেশস্থলের কাছাকাছি পেট্রল পাম্পগুলোতে দেখা যায়, প্রতি গ্যালন পেট্রল ৩ ডলার ৯৮ সেন্ট এবং ডিজেল ৫ ডলার ৭৮ সেন্টে বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি। খাদ্য ও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে গ্রামীণ এলাকার ভোটারদের মধ্যেও ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কানসাসে বড় ব্যবধানে জয় পেলেও বর্তমান মধ্যবর্তী নির্বাচনে মূল্যস্ফীতি ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর একাংশের সমর্থন কমে যাওয়ায় রিপাবলিকানদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে ট্রাম্প বর্তমানে টানা ৩২ দিন ধরে দেশজুড়ে বিরামহীন প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। রয়টার্স ও ইপসোসের সাম্প্রতিক জনমত জরিপে ট্রাম্পের প্রতি সামগ্রিক জনসমর্থন নেমে আসায় হোয়াইট হাউস এখন গ্রামীণ অঞ্চলের ভোটারদের ধরে রাখতে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে।