মসজিদে বসে থাকার ফজিলত ও সওয়াব

প্রকাশ: বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ০৫:৪৪ অপরাহ্ণ
মসজিদে বসে থাকার ফজিলত ও সওয়াব

ধর্ম ডেস্ক : মুসলিম সমাজে আমরা সাধারণত পবিত্র নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যেই মসজিদে গমন করে থাকি এবং জামায়াত বা নামাজ শেষ হওয়া মাত্রই যার যার পার্থিব কর্মস্থলে বা বাড়িতে ফিরে আসি। তবে ইসলামি শরিয়তের বিধান ও সহিহ হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, মূল নামাজ আদায় ছাড়াও কেবল আল্লাহর ঘর মসজিদে অবস্থান করা এবং শান্ত মনে বসে থাকার মধ্যেও রয়েছে অনন্য ও অপরিসীম ফজিলত। মসজিদে সময় কাটানো ও অবস্থানকারীর জন্য স্বয়ং বিশ্বনবী রাসুলুল্লাহ (সা.) বিভিন্ন হাদিসে চমৎকার সব সুসংবাদ দিয়ে গেছেন।

আজ বুধবার (৩ জুন) বিকেল ৫টা ১২ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘ধর্ম ও জীবন’ এবং ‘ইসলামি চিন্তাধারা’ বিভাগের বিশেষ প্রতিবেদনে মসজিদে বসে থাকার সেই অফুরন্ত সওয়াব ও ফজিলতের দিকগুলো সহিহ হাদিসের আলোকে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

মসজিদে ইবাদতের উদ্দেশ্যে বসে থাকার মানসিকতা মহান আল্লাহর দরবারে অত্যন্ত প্রিয়। প্রখ্যাত সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলিম যতক্ষণ মসজিদে সালাত (নামাজ) ও জিকিরে রত থাকে, ততক্ষণ আল্লাহ তার প্রতি এতটা আনন্দিত হন, প্রবাসী ব্যক্তি দীর্ঘ দিন পর তার পরিবারে ফিরে এলে তারা তাকে পেয়ে যেরূপ আনন্দিত ও উল্লসিত হয়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৮০০)।

যাঁরা মসজিদে এসে প্রথমেই ‘তাহিয়্যাতুল মসজিদ’ (মসজিদে প্রবেশের নফল নামাজ) দুই রাকাত সালাত আদায় করার পর ফরজ নামাজের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন কিংবা ফরজ সালাত শেষ হওয়ার পরও দুনিয়াবি গল্পগুজব না করে পবিত্র অবস্থায় মসজিদে বসে থাকেন, তাঁদের জন্য আল্লাহর নূরানি ফেরেশতারা অনবরত ক্ষমা লাভের দোয়া করতে থাকেন।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত অপর এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কেউ যতক্ষণ তার সালাতের স্থানে (মসজিদে) থাকে এবং তার অজু ভঙ্গ না হওয়া পর্যন্ত, তার জন্য ফেরেশতারা এই বলে দোয়া করতে থাকে যে—হে আল্লাহ, আপনি তাকে ক্ষমা করুন; হে আল্লাহ, আপনি তার প্রতি রহম করুন। আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তির সালাত তাকে (নামাজের প্রতি ভালোবাসার কারণে) বাড়ি ফিরে যাওয়া থেকে বিরত রাখে, সে মূলত সালাতরত বা নামাজের ভেতরেই আছে বলে পরিগণিত হবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৫৯)।

এক ফরজ নামাজ শেষ করে পরবর্তী ফরজ নামাজের জন্য যারা মসজিদে অপেক্ষা করেন, তাদের মর্যাদা স্বয়ং আল্লাহর কাছে অন্য উচ্চতায় পৌঁছে যায়। প্রখ্যাত সাহাবি আবদুর রহমান বিন আমর (রা.) বলেন, ‘একবার আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে মাগরিবের সালাত আদায় করলাম। তারপর যার চলে যাওয়ার সে চলে গেল এবং যার থেকে যাওয়ার সে মসজিদে থেকে গেল। কিছুক্ষণ পর রাসুল (সা.) এত দ্রুতবেগে আমাদের মাঝে ফিরে এলেন যে তাঁর দীর্ঘ নিঃশ্বাস বের হতে লাগল। তিনি তাঁর দুই হাঁটুর ওপর ভর করে বসে গেলেন এবং অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে বলেন, “তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো! তোমাদের মহান রব আসমানের একটি দরজা খুলে দিয়েছেন এবং ফেরেশতাদের কাছে তোমাদের সম্পর্কে গর্ব করে বলছেন—তোমরা আমার বান্দাদের দিকে তাকিয়ে দেখো, তারা এক ফরজ নামাজ আদায়ের পর পরবর্তী ফরজ নামাজ আদায়ের জন্য কেমন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।”’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৮০১)।

তাই ইসলামি চিন্তাবিদ ও ওলামায়ে কেরামগণ পরামর্শ দেন, দৈনন্দিন ব্যস্ততার মাঝেও প্রতিটি মুসলমানের উচিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে বা পরে অন্তত কিছুটা সময় মসজিদে জিকির, তিলাওয়াত কিংবা নিছক নীরবতার সাথে বসে কাটিয়ে ফেরেশতাদের সেই মহামূল্যবান রহমত ও মাগফিরাতের দোয়ার অংশীদার হওয়া।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন