ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
বসন্তের আগুনরাঙা শিমুল শুধু একটি ফুল নয়; এটি গ্রামবাংলার স্মৃতি, সংস্কৃতি ও প্রাণের প্রতীক।
তাজুল ইসলাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি: পাতাঝরার সুর, কোকিলের কুহুতান আর রৌদ্রোজ্জ্বল দিনের মায়াবী আলো—সব মিলিয়ে প্রকৃতিতে এসেছে বসন্ত। শীতের রিক্ততা কাটিয়ে প্রকৃতি সেজেছে নতুন রঙে। আর এই সময়েই উত্তরবঙ্গের জনপদকে রাঙিয়ে তুলেছে শিমুলের আগুনরাঙা ফুল। তবে বসন্তের সেই চিরচেনা রূপ এখন আর আগের মতো দেখা যায় না দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায়। প্রকৃতির বুক জুড়ে শিমুল ফুটলেও আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে গাছের সংখ্যা; ফলে ম্লান হয়ে আসছে বসন্তের সেই রক্তলাল মায়া।
সরেজমিনে দেখা যায়, বীরগঞ্জ উপজেলার প্রধান সড়কের হাটখোলা ও বলাকা মোড় সংলগ্ন বিষ্ণু মন্দির এলাকায় কয়েকটি শিমুল ও পলাশ গাছ রক্তলাল ফুলে ছেয়ে গেছে, যা পথচারীদের নজর কাড়ছে। বসন্তের শুরুতেই এই গাছগুলো প্রকৃতিতে এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি করেছে। স্থানীয়রা জানান, উত্তরের জেলা দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকায় এখনও শিমুল ফুটলেও আগের মতো সর্বত্র এর দেখা মেলে না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার শিবরামপুর, পলাশবাড়ী, শতগ্রাম, পাল্টাপুর, সুজালপুর, নিজপাড়া, মোহাম্মদপুর, ভোগনগর, সাতোর, মোহনপুর ও মরিচা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে হাতেগোনা কয়েকটি শিমুল গাছে ফুল ফুটেছে। কালের বিবর্তন, বসতবাড়ি বৃদ্ধি, কৃষিজমির ধরন পরিবর্তন এবং নতুন করে চারা রোপণের অভাবে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে এই পরিবেশবান্ধব বৃক্ষ।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক স্মৃতিচারণ করে বলেন, ছোটবেলায় গ্রামের রাস্তার দুপাশে সারিবদ্ধ শিমুল গাছ দেখা যেত। বসন্ত এলে পুরো গ্রাম যেন লাল রঙে সেজে উঠত। এখন সেই দৃশ্য বিরল। গৃহিণী বিলকিস বেগম জানান, আগে শিমুলের তুলা কুড়িয়ে বালিশ ও লেপ বানানো হতো, যা ছিল স্বাস্থ্যসম্মত ও সাশ্রয়ী। এখন গাছ কমে যাওয়ায় সেই ঐতিহ্যও হারিয়ে যাচ্ছে। বীরগঞ্জ মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি উত্তম শর্মা বলেন, শিমুল শুধু ফুল নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতির প্রতীক। একসময় যে শিমুল গ্রামীণ অর্থনীতি ও ঔষধি গুণাগুণের উৎস ছিল, আজ তা বিলুপ্তির পথে। এই ঐতিহ্য রক্ষায় এখনই সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কেবল বইয়ের পাতায় বসন্তের এই রূপ খুঁজে পাবে। পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় শিমুল গাছ সংরক্ষণ ও বনায়ন এখন সময়ের দাবি।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ