আব্দুল কাইয়ুম আরজু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: ঈদুল আজহার টানা ছুটিতে পটুয়াখালীর সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটায় সপ্তাহব্যাপী পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে শুরু হওয়া এই ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে সমুদ্রসৈকতের জিরো পয়েন্ট, ঝাউবন, গঙ্গামতির চরসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান।
মঙ্গলবার ও বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, হাজারো পর্যটক সমুদ্রের জলরাশিতে গোসল ও ছবি তোলায় মেতে উঠেছেন।
ঈদের ছুটিতে পর্যটকের আকস্মিক চাপ বাড়ায় কুয়াকাটার অধিকাংশ আবাসিক হোটেল ও রিসোর্টে কক্ষ সংকট দেখা দেয়। ফলে অনেক পর্যটক হোটেল না পেয়ে বাধ্য হয়ে সৈকতের ছাতা-বেঞ্চেই (কিটকট) পুরো রাত কাটান। তবে পর্যটকদের অনেকেই এটিকে দুর্ভোগ না ভেবে চাঁদের আলো আর সমুদ্রের মিতালিতে এক ব্যতিক্রমী ও নান্দনিক অভিজ্ঞতা হিসেবেই দেখছেন।
গভীর রাতে সৈকতে অবস্থান করা পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়মিত টহল জোরদার রয়েছে। নিরাপদ পরিবেশের কারণে কুয়াকাটা এখন রাতের পর্যটনের জন্যও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
সৈকতে পর্যটকদের বিপুল উপস্থিতি থাকলেও ব্যবসায়িক দিক থেকে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের মতে, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ব্যয় করার সক্ষমতা কমেছে।
হোটেল মালিক ও ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটকেরা কুয়াকাটায় এলেও আগের মতো মুক্তহস্তে খরচ করছেন না; অনেকেই স্বল্প খরচের আবাসন ও বিনোদন খাতে ব্যয় সীমিত রাখছেন। ফলে পর্যটকের সমাগম অনুযায়ী আশানুরূপ ব্যবসায়িক লেনদেন হচ্ছে না বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
এআইএল/সকালবেলা