‘নেতানিয়াহুকে পাগল বলেছিলাম, তবে সম্পর্ক এখনো ভালো’;

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ০৫:৩৬ অপরাহ্ণ
‘নেতানিয়াহুকে পাগল বলেছিলাম, তবে সম্পর্ক এখনো ভালো’;
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : লেবাননে ক্রমাগত সামরিক আগ্রাসন ও রক্তক্ষয়ী অভিযান অব্যাহত রাখায় চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁকে সরাসরি ‘পাগল’ বলে সম্বোধন করেছিলেন বলে প্রকাশ্য মুখচ্ছদে স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শোরগোল পড়ে যাওয়া এই মন্তব্যের তীব্রতা কমিয়ে ট্রাম্প একই সঙ্গে দাবি করেছেন, এত কিছুর পরও নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর কৌশলগত ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক এখনো যথেষ্ট ভালো ও অক্ষুণ্ন রয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘বিশ্ব সংবাদ’ ও ‘মধ্যপ্রাচ্য ভূরাজনীতি, হোয়াইট হাউস ও ওয়াশিংটন-তেল আবিব সম্পর্ক’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে দুই শীর্ষ নেতার এই চাঞ্চল্যকর ফোনালাপের ভেতরের খবর বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনা প্রশমনে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ মধ্যস্থতায় যখন ইরান ও লেবানন ইস্যুতে এক জটিল শান্তি আলোচনা ও কূটনৈতিক রফাদফা চলছিল, ঠিক তখনই এক রুদ্ধদ্বার ফোনালাপে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে কড়া ভাষায় ‘পাগল’ (Crazy) বলে আখ্যা দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বুধবার (৩ জুন) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রচারিত জনপ্রিয় ‘পড ফোর্স ওয়ান’ (Pod Force One) নামক এক পডকাস্ট অনুষ্ঠানে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিজেই এই সংবেদনশীল তথ্যটি প্রথমবার বিশ্বের সামনে নিশ্চিত করেন।

এর আগে মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ (Axios)-এর এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, একটি অত্যন্ত উত্তপ্ত ফোনালাপে ট্রাম্প সরাসরি নেতানিয়াহুকে অবিলম্বে লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ করার চূড়ান্ত আহ্বান জানান এবং ইসরাইলের একগুঁয়ে নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। পডকাস্টে এই গোপন ফোনালাপ ও প্রতিবেদনটির সত্যতা বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প একটুও আমতা আমতা না করে সরাসরি বলেন যে, তিনি আসলেই ওই বিতর্কিত মন্তব্যটি করেছিলেন। তবে তিনি এটি কোনো ব্যক্তিগত ব্যক্তিগত শত্রুতা বা অন্ধ রাগ থেকে বলেননি; বরং যুদ্ধবিধ্বস্ত লেবাননে ইসরাইলের এভাবে লাগাতার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার একমুখী একগুঁয়ে নীতিটি তাঁকে কূটনৈতিকভাবে চরম বিরক্ত ও বিব্রত করেছিল।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পডকাস্টে জোর দিয়ে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ফোনালাপের তীব্র মতপার্থক্যের পরও নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর বর্তমান কূটনৈতিক সম্পর্ক ‘খুবই চমৎকার ও ভালো’। অন্যদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া তাঁর সাম্প্রতিক এক পাল্টা সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের সুরেই কথা বলেছেন। নেতানিয়াহু স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁদের দুজনের মূল রাজনৈতিক ও সামরিক লক্ষ্য বা ভিশন একদম অভিন্ন। ফোনালাপে সাময়িক কিছু বিষয়ে বড় মতপার্থক্য তৈরি হলেও তা কোনোভাবেই দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী মিত্রতা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি নির্দেশ করে না।

এদিকে, হোয়াইট হাউসের সর্বোচ্চ মধ্যস্থতায় এবং মার্কিন কূটনীতিকদের তীব্র চাপের মুখে মধ্যপ্রাচ্যে একটি টেকসই যুদ্ধবিরতির আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও, বাস্তব ক্ষেত্রে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি ডিফেন্স ফোর্সের (IDF) প্রাণঘাতী বিমান ও স্থল হামলা আজ পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। ইসরাইলের এই আগ্রাসী মনোভাবের জবাবে আঞ্চলিক পরাশক্তি ইরানও তাদের স্পষ্ট অবস্থান জানিয়ে দিয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, যতক্ষণ না লেবাননকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও আইনি আন্তর্জাতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় এনে সম্পূর্ণ নিরাপদ করা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা ওয়াশিংটনের সাথে অন্য কোনো কূটনৈতিক সমঝোতা বা পরমাণু আলোচনায় অংশ নিতে রাজি হবে না। এই ত্রিভুজ সংকটের মাঝে ট্রাম্পের এই নতুন মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন