পলিথিনের ছাউনি ঘরে নির্মলের মানবেতর জীবন, বৃষ্টি তাদের জন্য অভিশাপ

পলিথিনের ছাউনি ঘরে নির্মলের মানবেতর জীবন, বৃষ্টি তাদের জন্য অভিশাপ

বৈশাখের তীব্র গরমে এক পশলা বৃষ্টি সাধারণ মানুষের কাছে স্বস্তির বার্তা আনলেও ঝালকাঠির নির্মল ব্যাপারীর পরিবারের কাছে তা এক বিভীষিকার নাম। স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তান নিয়ে পলিথিন আর খেজুর পাতার এক জরাজীর্ণ ঝুপড়িতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এই শ্রমজীবী মানুষটি। আকাশে মেঘ জমলেই বৃষ্টির আতঙ্কে দিন কাটে এই পরিবারের।

বসবাসের করুণ চিত্র: ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের চাঁদপুরা গ্রামে বড় ভাই স্বপন ব্যাপারীর টিনের ঘরের একপাশে কোনোমতে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নিয়েছেন নির্মল (৪৫)। সরেজমিনে দেখা গেছে, বাঁশ, খেজুর পাতা আর তালি দেওয়া পুরোনো পলিথিনই এই পরিবারের একমাত্র প্রতিরক্ষা। মেঝে কাঁচা হওয়ায় বৃষ্টি নামলেই ভেতরে পানি ঢুকে কাদা হয়ে যায়। ঘরের ভেতর সরু জায়গায় গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে সব আসবাব। মাটির ওপর ছেঁড়া চট আর মাদুরই তাদের ঘুমের বিছানা।

অভাবের সংসার ও শারীরিক অক্ষমতা: নির্মল ব্যাপারীর পরিবারে স্ত্রী ছাড়াও রয়েছে পাঁচ বছরের মেয়ে মধুমিতা এবং মাত্র নয় মাসের শিশু নন্দিনী। কয়েক বছর আগে কাজের সময় উঁচু থেকে পড়ে গিয়ে কোমরে গুরুতর আঘাত পান নির্মল। এরপর থেকে ভারী কাজ করার সক্ষমতা হারিয়েছেন তিনি। বর্তমানে বাড়িতে বসে বাঁশ দিয়ে ‘সাজি’ (এক ধরণের ঝুড়ি) তৈরি করেন। তা বিক্রি করে যা সামান্য আয় হয়, তা দিয়েই অতি কষ্টে সংসার চলে।

বৃষ্টির দিনে ভোগান্তি: নির্মল জানান, বৃষ্টি হলে ঘরের ফুটো পলিথিন দিয়ে পানি চুঁইয়ে পড়ে বিছানা-বালিশ ভিজে যায়। তখন ছোট বাচ্চাদের কোলে নিয়ে সারারাত বসে কাটাতে হয়। রান্নার জায়গা থেকে শুরু করে ঘুমানোর ঠাঁই—সবই তখন পানিতে একাকার হয়ে যায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য ও সরকারি আশ্বাস: প্রতিবেশীরা জানান, নির্মলের শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তিনি নিয়মিত আয় করতে পারেন না, ফলে একটি টেকসই ঘর তোলা তাঁর পক্ষে অসম্ভব। স্থানীয় ইউপি সদস্য খালিদ হাসান বাদল জানান, বিষয়টি তাঁরা তালিকাভুক্ত করার চেষ্টা করছেন। ঝালকাঠি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেগুফতা মেহনাজ জানিয়েছেন, ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে এই পরিবারের জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন