মোঃ ইসতিয়াক আহম্মদ আসিফ, গোবিপ্রবি প্রতিনিধি: স্বাধীনতা কেবল একটি শব্দ নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাঙালির আত্মত্যাগ, সংগ্রাম আর গৌরবের ইতিহাস। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে ৫৫ বছরে পদার্পণের এই মাহেন্দ্রক্ষণে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের মনেও স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা ভাবনা, প্রত্যাশা ও উপলব্ধি। ৫৫ একরের সবুজ ক্যাম্পাসে দাঁড়িয়ে তরুণ প্রজন্মের এই বহুমাত্রিক চিন্তা-চেতনার প্রতিফলন তুলে ধরেছেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ ইসতিয়াক আহম্মদ আসিফ।
স্বাধীনতার চেতনায় গড়ে উঠুক দায়িত্বশীল প্রজন্ম সমাজবিজ্ঞান বিভাগের (২০১৯-২০) শিক্ষার্থী আরিজ বিনতে হাবিব মনে করেন, স্বাধীনতার প্রকৃত সার্থকতা শুধু একটি ভূখণ্ড পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি বলেন, “স্বাধীনতার অর্থ নিহিত আছে শৃঙ্খলমুক্ত চিন্তা ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার মাঝে। দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকাই হতে পারে আমাদের পক্ষ থেকে স্বাধীনতার প্রতি শ্রেষ্ঠ সম্মান।”
শহীদের রক্তের ঋণ: কাজে প্রমাণের সময় ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের (২০২২-২৩) শিক্ষার্থী আরাফাত আলম সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আরও বেশি সচেতন হওয়ার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “আমাদের স্বাধীনতার চেতনার বুলি আওড়াতে যতোটা আগ্রহী থাকি, তার লালন-ধারণে ততোটা নই। সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিজেদের যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলাই এখনকার সময়ের মৌলিক দাবি।”
আত্মসমালোচনার সময় ইংরেজি বিভাগের (২০১৯-২০) শিক্ষার্থী ফারিয়া বিনতে ফিরোজের মতে, স্বাধীনতা দিবস কেবল উদযাপনের নয়, বরং আত্মসমালোচনার দিন। তিনি বলেন, “অর্ধশত বছর পার করার পরও আমাদের দায়িত্ব কমেনি। বর্তমানের সামাজিক অবক্ষয় ও বৈষম্য দূর করে একটি মানবিক মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা এখন সবচেয়ে জরুরি।”
তারুণ্যই আমাদের শক্তি ইতিহাস বিভাগের (২০২৩-২৪) শিক্ষার্থী মোঃ মিরাজুল ইসলাম বলেন, “স্বাধীনতা মানে মুক্তচিন্তার অবারিত আকাশ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে বজ্রকণ্ঠে সোচ্চার হওয়ার সাহস। ৫২-র ভাষা আন্দোলন থেকে ২৪-এর জুলাই বিপ্লব—সবখানেই তারুণ্য জয়ের গান গেয়েছে। অতীতের চেতনাকে পাথেয় করে আমরা একটি ইনসাফপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে চাই।”
শিক্ষার্থীদের এই সম্মিলিত ভাবনায় ফুটে উঠেছে একটিই সুর—একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকার। তরুণদের এই সচেতনতাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও উন্নত বাংলাদেশ নিশ্চিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।