পাকুন্দিয়ায় সূর্যমুখী চাষে বাম্পার ফলন: হলদে আভায় হাসছে কৃষকের মুখ

পাকুন্দিয়ায় সূর্যমুখী চাষে বাম্পার ফলন: হলদে আভায় হাসছে কৃষকের মুখ

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ): ভোরের রোদে সূর্যের দিকে মুখ তুলে দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি সূর্যমুখী ফুল। মাঠজুড়ে যেন হলুদের গালিচা বিছানো এক অনন্য প্রাকৃতিক ক্যানভাস। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার দিগন্তজোড়া মাঠে ফুটে থাকা এসব সূর্যমুখী ফুল এখন নজর কাড়ছে ছোট-বড় সবার। শুধু সৌন্দর্য নয়, কম খরচে অধিক লাভজনক হওয়ায় উপজেলার কৃষকদের মাঝে এবার সূর্যমুখী চাষে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগের সরাসরি সহযোগিতায় এ বছর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে সূর্যমুখীর আবাদ করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর পাকুন্দিয়ার বড়আজলদী ও চণ্ডিপাশাসহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় ১০ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে। সূর্যমুখী চাষ তুলনামূলক সহজ এবং অর্থনৈতিকভাবেও লাভজনক। একদিকে যেমন ভোজ্য তেলের চাহিদা মেটাতে এর গুরুত্ব অপরিসীম, অন্যদিকে স্থানীয় বাজারে বীজের ভালো দাম থাকায় কৃষকরা আবাদে আগ্রহী হচ্ছেন। কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের সরকারি প্রণোদনার পাশাপাশি নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছেন।

সরেজমিনে উপজেলার বড়আজলদী গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, কৃষক মজনু মিয়া প্রথমবারের মতো তাঁর ৩৩ শতক জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ করেছেন। বর্তমানে তাঁর বাগানে বড় বড় ফুল ফুটতে শুরু করেছে। মজনু মিয়া বলেন, ‘কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে খুব সামান্য খরচে এবার চাষ করেছি। যে ফলন দেখা যাচ্ছে তাতে আশা করছি ভালো লাভ হবে।’ একই গ্রামের আরেক কৃষক হাদিউল ইসলাম দুই বিঘা জমিতে এই ফুলের চাষ করেছেন। তাঁর জমিতেও ফলন আসতে শুরু করেছে। এদিকে এই মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতিদিন ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। সারোয়ার হোসেন নামে এক দর্শনার্থী জানান, চারদিকে হলুদের সমারোহ দেখে মানসিক প্রশান্তি পাওয়া যায়, তাই বন্ধুদের নিয়ে ছবি তুলতে এসেছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুরে-ই-আলম জানান, পরিবেশের ইকোসিস্টেম ঠিক রাখতে বৈচিত্র্যময় চাষাবাদ অত্যন্ত জরুরি। সূর্যমুখী একটি অত্যন্ত লাভজনক ফসল। তবে তেল নিষ্কাশন যন্ত্রের (অয়েল মিল) অপ্রতুলতার কারণে অনেক কৃষক পিছিয়ে থাকেন। পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল নিষ্কাশন যন্ত্রের সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারলে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে সূর্যমুখীর আবাদ আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। কৃষকদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী করতে উপজেলা কৃষি বিভাগ নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন