ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বাজারে নিত্যপণ্যের দামের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত ও জ্বালানি খরচ। ভোজ্যতেল, শাক-সবজি থেকে শুরু করে এলপিজি গ্যাস—প্রায় সব ক্ষেত্রেই ব্যয়ের নতুন চাপে পিষ্ট হচ্ছে সাধারণ মানুষ। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার প্রভাবে আমদানিনির্ভর পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে রান্নার গ্যাসের বাজারে। এপ্রিল মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম একলাফে ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করেছে বিইআরসি। অর্থাৎ প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে প্রায় ৩২ টাকা। অটোগ্যাসের দামও লিটারপ্রতি ১৮ টাকা বেড়ে এখন ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সা। তবে অভিযোগ রয়েছে, খুচরা বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়েও ৩০০-৪০০ টাকা বেশি দরে গ্যাস বিক্রি হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির অস্থিরতায় পরিবহন খরচ বাড়ার অজুহাতে ভোজ্যতেলের দাম আবারও চড়া। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে খোলা পাম অয়েল ও সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ৭ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। পাইকারি বাজারে প্রতি ড্রামে দাম বেড়েছে প্রায় এক হাজার টাকা।
জ্বালানি সংকটে উৎপাদন খরচ বাড়ায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাত সংকটে পড়েছে। শ্রমিকদের ওভারটাইম কমায় কমছে মাসিক আয়। এদিকে সেচের জন্য ডিজেলের ওপর নির্ভরতা থাকায় কৃষি উৎপাদনও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ জানান, জ্বালানি খাতের এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে বাজারে দ্বিতীয় ধাপের মূল্যস্ফীতি তৈরি হতে পারে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রাকে আরও দুর্বিষহ করে তুলবে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ’-এর মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০ ডলার বাড়লে বাংলাদেশের অতিরিক্ত ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় বাড়তে পারে। এই সংকট মোকাবিলায় সরকারকে বাজার তদারকি জোরদার করা এবং কৃষি ও শিল্প খাতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ