এলসি ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে কাগজের দিন শেষ: ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ

প্রকাশ: বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৪ অপরাহ্ণ
এলসি ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে কাগজের দিন শেষ: ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক ঃ   বৈশ্বিক বাণিজ্য কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, দ্রুত ও কার্যকর করতে কাগুজে নথির সনাতন আমল থেকে ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ। এলসি (ঋণপত্র) এবং আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্র সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াকরণের জন্য একটি বিশেষ পাইলট কর্মসূচি চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে এখন থেকে ডকুমেন্টারি কালেকশন ও এলসি–সংক্রান্ত সব নথি ইলেকট্রনিক বা ডিজিটাল উপায়ে জমা, প্রেরণ এবং যাচাই-বাছাই করা যাবে।

বুধবার (১ জুলাই) দেশের সব অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকে পাঠানো এক সার্কুলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনুমোদিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করিডোরগুলোর মধ্যে সব ধরনের ট্রেড ডকুমেন্ট এখন থেকে ডিজিটালভাবে আদান-প্রদান ও যাচাই করা যাবে।

নতুন এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই পাইলট কর্মসূচির আওতায় আমদানি ও রপ্তানি—উভয় ধরনের বাণিজ্যিক লেনদেনই অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পুরো প্রক্রিয়াটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘ইউনিফর্ম রুলস ফর কালেকশন’ (ইউআরসি), ‘ইউনিফর্ম কাস্টমস অ্যান্ড প্র্যাকটিস ফর ডকুমেন্টারি ক্রেডিটস’ (ইউসিপি) এবং এসব নীতিমালার সর্বশেষ ইলেকট্রনিক সংস্করণের কঠোর বিধিমালা মেনে পরিচালিত হবে।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশে এই প্রথম ‘ইলেকট্রনিক ট্রান্সফারেবল রেকর্ডস’ ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক সুযোগ চালু করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট করেছে, নির্ধারিত মানদণ্ড ও সুরক্ষা নীতি অনুসরণ করা হলে এই ডিজিটাল নথিগুলো প্রচলিত কাগজভিত্তিক দলিলের মতোই শতভাগ আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হবে। নতুন এই ডিজিটাল বাণিজ্যে দলিলের আন্তঃকার্যক্ষমতা, প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা, ডেটা বা তথ্য সুরক্ষা এবং নিরাপদ ডিজিটাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিকেন্দ্রীভূত যাচাইকরণ ব্যবস্থার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, যেসব অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংক এই নতুন পাইলট কর্মসূচিতে অংশ নিতে আগ্রহী, তাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে পূর্বানুমোদন নিতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে তাদের নির্দিষ্ট বাণিজ্য করিডোর, বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহ, লেনদেনের ধরন এবং তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনার বিস্তারিত বিবরণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দিতে হবে। এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার আওতায় ইনভয়েস (বিল), পরিবহন দলিল এবং ড্রাফটসহ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সব ধরনের ট্রেড ডকুমেন্ট ইলেকট্রনিকভাবে পরিচালনা করা হবে।

তবে সুরক্ষার খাতিরে সার্কুলারে একটি বিশেষ ধারা রাখা হয়েছে। যেসব দেশ বা বিদেশি আইনি কাঠামোতে এখনও ডিজিটাল দলিলের আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি, সেসব দেশের সঙ্গে লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো প্রয়োজন মনে করলে আগের মতো কাগজভিত্তিক বা কাগুজে নথি তলব করতে পারবে। একই সঙ্গে গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে এনক্রিপশন, ডিজিটাল প্রমাণীকরণ এবং অডিট ট্রেইলসহ শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও জানায়, এই পাইলট কর্মসূচিটি প্রাথমিক পর্যায়ে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। এর সার্বিক কার্যকারিতা, সুবিধা এবং নিয়ন্ত্রক মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে এর পরিধি সারা বিশ্বে আরও সম্প্রসারণ করা হতে পারে। তবে এই নতুন ব্যবস্থার কারণে দেশের বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত কোনো বিধিমালা ক্ষুণ্ন হবে না, বরং তা আগের নিয়মেই বহাল থাকবে।

মন্তব্য করুন