ঘোড়াঘাটে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশ: বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৩ অপরাহ্ণ
ঘোড়াঘাটে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

শাহারুল ইসলাম, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার বেলওয়া আদিবাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মাহমুদা খাতুনের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং দুই সহকারী শিক্ষিকাকে হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে।

গত ১৪ জুন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে এই বিষয়ে একটি যৌথ লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা লুৎফুর নাহার ও সিনথিয়া আফরিন।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের ফ্যান, সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল, ব্যাটারি ও পানির ট্যাংকসহ বিভিন্ন সরকারি সম্পদ কোনো সরকারি নিয়ম না মেনেই বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষার ফি ও সনদপত্র বিতরণের নামে অবৈধভাবে অর্থ আদায়, জাতীয় দিবসের সরকারি বরাদ্দের অপব্যবহার, স্লিপ ও টিফিন কর্মসূচিতে অনিয়ম এবং সাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণের নামে শিক্ষকদের কাছে জনপ্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকা করে চাঁদা দাবি করার অভিযোগ আনা হয়েছে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারী দুই শিক্ষিকা আরও জানান, প্রধান শিক্ষিকা মাহমুদা খাতুন বিভিন্ন অভিভাবক সমাবেশে তাঁদের হেয় প্রতিপন্ন করেন। গত ১১ জুন ক্লাস বিরতির সময় ফলাফল শিট পর্যালোচনার একটি ছবি তুলে প্রধান শিক্ষকদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ‘ক্লাস বাদ দিয়ে গল্প চলছে’ ক্যাপশন দিয়ে পোস্ট করেন। এছাড়া মাঠের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে তাঁদের সামাজিকভাবে হেয় ও সাইবার বুলিংয়ের শিকার করা হয়েছে। সহকারী শিক্ষিকা সিনথিয়া আফরিন জানান, এই অনবরত মানসিক হয়রানিতে তিনি সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মাহমুদা খাতুন বলেন, "আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। দুটি পানির ট্যাংক নষ্ট হওয়ায় শিক্ষা অফিসারকে জানিয়ে নিরাপত্তার স্বার্থে আমার বাড়িতে রেখেছি। কিছু যন্ত্রপাতি মেকানিকের কাছে দেওয়া হয়েছে।" তবে সরকারি সম্পদ যথাযথ অনুমোদন বা নথিপত্র ছাড়া ব্যক্তিগত জিম্মায় রাখা কতটুকু বিধিসম্মত, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা অভিযোগ করেন, বিষয়টি ধামাচাপা দিতে প্রধান শিক্ষিকা নানা মহলে তদবির চালাচ্ছেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাইমারি এডুকেশন ট্রেনিং সেন্টারের ইন্সপেক্টর মো. শাহিদুল ইসলাম জানান, "গত ২৩ জুন এবং দ্বিতীয় দফায় ৩০ জুন (মঙ্গলবার) আমি সরজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদসহ তদন্ত পরিচালনা করেছি। বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।"

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আফজাল হোসেন বলেন, "তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন