ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের কর্মকাণ্ডের তদন্ত চেয়ে করা রিট খারিজ

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০১:৩২ অপরাহ্ণ
ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের কর্মকাণ্ডের তদন্ত চেয়ে করা রিট খারিজ

ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক: ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে পরিচালিত বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসন আমলের সামগ্রিক কর্মকাণ্ড, নীতি ও নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তগুলোর ওপর তদন্ত চেয়ে দায়ের করা রিট আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই আদেশের ফলে অন্তর্বর্তীকালীন শাসন আমলের আইনি ও প্রশাসনিক বৈধতার প্রশ্নে চলমান আলোচনা ও আইনি লড়াইয়ে নতুন মোড় নিল।

আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ দীর্ঘ শুনানি শেষে এই তাৎপর্যপূর্ণ আদেশ প্রদান করেন। 

এর আগে গত রবিবার (১৭ মে) অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব পালনকালীন দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের নির্দেশনা চেয়ে আদালতে এই রিট আবেদনটি যৌথভাবে দায়ের করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এমকে রহমান ও আইনজীবী মহসিন রশীদ। আজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নিয়ে রিটের তীব্র বিরোধিতা করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

শুনানি শেষে রিটকারী জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এমকে রহমান সাংবাদিকদের কাছে তাঁদের আইনি যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিগত ১৮ মাসে দেশের অর্থনীতি, জনস্বাস্থ্য, ব্যাংকিং খাত ও আইনশৃঙ্খলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এক ধরনের প্রশাসনিক স্থবিরতা ও অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। অনেক সিদ্ধান্তই দেশের প্রচলিত আইনি কাঠামোর বাইরে গিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে তাঁদের দাবি। তাই ‘কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট’ অনুযায়ী একটি আনুষ্ঠানিক ও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করা এখানে অত্যন্ত বাঞ্ছনীয় ছিল, যাতে ভবিষ্যতে কোনো নির্বাচিত সরকার এসেও পূর্ববর্তী সময়ের এই নীতিগত ভুল বা সিদ্ধান্তগুলোকে উপেক্ষা করতে না পারে।

অন্য রিটকারী আইনজীবী মহসিন রশীদ জানান, বিগত সময়ে রাষ্ট্রে যা কিছু ঘটেছে, তার একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও আইনানুগ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই ছিল তাঁদের মূল লক্ষ্য। তারা চেয়েছিলেন আদালতের নির্দেশনায় একটি স্বাধীন কমিশন পুরো আমলটির অডিট করুক। গত শুনানিতে এই রিটের বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা ও বক্তব্য আদালতকে জানানোর জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল সময় নিয়েছিলেন। আজ রাষ্ট্রপক্ষ তাদের বক্তব্য উপস্থাপনের পর আদালত চূড়ান্ত শুনানি শেষে রিট আবেদনটি খারিজের সিদ্ধান্ত দেন।

আদালতের এই আদেশের পর রিটকারী আইনজীবীরা জানিয়েছেন, হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে তারা আপিল বিভাগে যাবেন কিনা, তা পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর পর্যালোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে এই খারিজ আদেশের ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর আইনি ভিত্তি আপাতত বহাল রইল বলে মনে করছেন আদালত সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য করুন