৬৪ জেলায় স্পোর্টস ভিলেজ ও ৪৫০ উপজেলায় ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণ করছে সরকার

৬৪ জেলায় স্পোর্টস ভিলেজ ও ৪৫০ উপজেলায় ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণ করছে সরকার

জাতীয় সংসদ

দেশের ক্রীড়াঙ্গনের চেহারা বদলে দিতে এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে বিশ্বমানের অ্যাথলেট তৈরি করতে এক বিশাল মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সরকার। এই পরিকল্পনার আওতায় দেশের ৬৪টি জেলায় আধুনিক ইনডোর সুবিধাসম্পন্ন ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ এবং ৪৫০টি উপজেলায় উন্নত মানের ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এ. এম মাহবুব উদ্দিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী মো. আমিনুল হক সরকারের এই উন্নয়ন রূপরেখা তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশনে মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার খেলাধুলাকে কেবল বিনোদন নয়, বরং একটি সম্মানজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বদ্ধপরিকর।

ক্রীড়ামন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, “তৃণমূলের প্রতিভা অন্বেষণে আমরা জাতীয় শিক্ষাক্রমের চতুর্থ শ্রেণি থেকেই খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিয়েছি। এছাড়া ‘নতুন কুঁড়ি’ স্পোর্টস কর্মসূচির মাধ্যমে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রতিভাবান শিক্ষার্থীদের বিশেষ বৃত্তি প্রদান করা হবে।” তিনি আরও জানান, দেশের প্রতিটি বিভাগে বিকেএসপির শাখা প্রতিষ্ঠা এবং উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অফিসার ও শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, দেশের প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ তৈরি এবং বিদ্যমান মাঠগুলোকে দখলমুক্ত করার বিশেষ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের খেলার সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশে ক্রীড়া সরঞ্জাম তৈরির শিল্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রস্তাবিত ‘স্পোর্টস ভিলেজ’গুলোতে একই জায়গায় মাঠ, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা থাকবে, যা বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরিতে সহায়ক হবে।

এদিকে ক্রীড়াঙ্গনের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মন্ত্রী। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সহ বিভিন্ন ফেডারেশনের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্রীড়াঙ্গনে স্বচ্ছতা ফেরাতে জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলোতে বর্তমানে অ্যাডহক কমিটি কাজ করছে এবং আগামী তিন মাসের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে।”

ক্রীড়া খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে এবং আধুনিক অবকাঠামো নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে সংসদকে আশ্বস্ত করেন মন্ত্রী।

মন্তব্য করুন