হার্ট অ্যাটাকের পূর্বাভাস: যেসব লক্ষণ উপেক্ষা করা বিপজ্জনক

হার্ট অ্যাটাকের পূর্বাভাস: যেসব লক্ষণ উপেক্ষা করা বিপজ্জনক

হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাক হঠাৎ করে হানা দিলেও শরীর এর বেশ কিছু পূর্বলক্ষণ প্রকাশ করে, যা অধিকাংশ সময় সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে না। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় হার্ট অ্যাটাক বা ব্রেন স্ট্রোকের এই প্রাথমিক পর্যায়কে বলা হয় ‘এন্ডোথেলিয়াল ডিসফাংশন’। মূলত রক্তনালির ভেতরের অত্যন্ত সংবেদনশীল আস্তরণ বা এন্ডোথেলিয়াম ক্ষতিগ্রস্ত হলেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়। উচ্চ রক্তচাপ, ধূমপান, উচ্চ কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিসের কারণে রক্তনালিতে নাইট্রিক অক্সাইড কমে গিয়ে সুরক্ষাবলয় ভেঙে পড়ে। ফলে রক্তনালিগুলো শক্ত ও সরু হয়ে প্রদাহ তৈরি করে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

গবেষকদের মতে, এন্ডোথেলিয়াম স্তরটি নাইট্রিক অক্সাইড তৈরির মাধ্যমে রক্তনালিকে নমনীয় রাখে এবং রক্ত চলাচলের পথ সুগম করে। কোনো কারণে এই আস্তরণটি কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেললে রক্তনালি তার স্থিতিস্থাপকতা হারায়। এই সুযোগে স্তরের নিচে চর্বি, কোলেস্টেরল এবং অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থ জমে ‘প্লাক’ তৈরি করে। এই প্লাক বা ব্লকেজই ধমনির পথ সংকীর্ণ করে দেয়, যা থেকে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা তৈরি হয়। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ, হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক গবেষণায় হৃদরোগের পূর্বলক্ষণ বুঝতে এখন এন্ডোথেলিয়াল ডিসফাংশনকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, রক্তে কোলেস্টেরল বা শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে এন্ডোথেলিয়াম স্তরটি দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত ধূমপান করেন, তাদের শরীরে নিকোটিন ও অন্যান্য রাসায়নিক ঢুকে রক্তনালির এই সংবেদনশীল স্তরে ক্ষত তৈরি করে। এর ফলে রক্তনালি সংকুচিত হয়ে রক্তপ্রবাহে বিঘ্ন ঘটায়। তাই হার্টের সুস্থতায় এন্ডোথেলিয়াল ডিসফাংশন সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং প্রাথমিক লক্ষণগুলো দেখা দিলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত জীবনযাপন ও ক্ষতিকর অভ্যাস ত্যাগের মাধ্যমেই এই ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন