যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলার ছাড়ালো তেলের দাম

যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলার ছাড়ালো তেলের দাম

ইরান যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে গড়াতেই আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ১০৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

রোববার (১৬ মার্চ) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড প্রায় ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ১০৬ দশমিক ১২ ডলারে লেনদেন হয়েছে। একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রের তেলের দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৫৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, এই জলপথ দিয়েই বিশ্বে সরবরাহ হওয়া প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়।

এই পরিস্থিতিতে মিত্রদের সহায়তায় দ্রুত ওই জলপথ পুনরায় সচল করার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, দ্রুত ও নিরাপদভাবে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তেলবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিতে মার্কিন নৌবাহিনী মোতায়েনের কথাও জানিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে এই প্রস্তুতি সম্পন্ন হতে আরও কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে বলে স্বীকার করেছে প্রশাসন।

এদিকে, ভূ-রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়াতে হরমুজ প্রণালিতে মাইন পেতে রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট তেল ও গ্যাস স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছে ইরান। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ওই জলপথে একাধিক তেলবাহী জাহাজ হামলার মুখে পড়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে এবং হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলে জ্বালানি তেলের দাম ভবিষ্যতে আরও বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

আই.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন