মান্নার মৃত্যুবার্ষিকীতে ভাইরাল সেই ঐতিহাসিক ছবি

মান্নার মৃত্যুবার্ষিকীতে ভাইরাল সেই ঐতিহাসিক ছবি

বিনোদন ডেস্ক, ঢাকা: গত ডিসেম্বরে দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফেরার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান। তবে ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি যখন দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন, ঠিক তখনই নেটদুনিয়ায় নতুন করে ভাইরাল হয়েছে একটি পুরোনো ছবি।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বাংলার প্রয়াত সুপারস্টার চিত্রনায়ক মান্না এবং তারেক রহমান অত্যন্ত হাসিমুখে কুশল বিনিময় করছেন। কাকতালীয়ভাবে, ১৭ ফেব্রুয়ারি নায়ক মান্নারও মৃত্যুবার্ষিকী। একই দিনে প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ এবং প্রিয় নায়কের প্রয়াণ দিবস হওয়ায় ছবিটি নিয়ে চলচ্চিত্র ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।

সেদিন কী কথা হয়েছিল দুজনের? এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের নেপথ্যের গল্প জানিয়েছেন মান্নার স্ত্রী শেলী মান্না। তিনি জানান, ছবিটি মূলত ২০০২ সালের পরবর্তী কোনো সময়ের। তখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায়। পহেলা বৈশাখের এক অনুষ্ঠানে রমনার বটমূলে বর্ষবরণ আয়োজনে অতিথি হিসেবে গিয়েছিলেন নায়ক মান্না। সেখানেই তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর হঠাৎ সাক্ষাৎ হয়। শেলী মান্না বলেন, "মান্না জানিয়েছিলেন, তারেক রহমান তাঁর অভিনয়ের প্রশংসা করেছিলেন। মূলত সিনেমা, দেশের সংস্কৃতি এবং তারকারা কীভাবে রাজনীতিতে এসে দেশের সেবা করতে পারেন— এসব নিয়েই তাঁদের মধ্যে আন্তরিক আলাপ হয়েছিল।"

স্মৃতিতে অম্লান নায়ক মান্না ১৯৬৪ সালে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে জন্মগ্রহণ করা মান্নার আসল নাম সৈয়দ মোহাম্মদ আসলাম তালুকদার। ১৯৮৪ সালে এফডিসির 'নতুন মুখের সন্ধান' কার্যক্রমের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আসা এই নায়ক 'তওবা' সিনেমার মাধ্যমে অভিষেক ঘটান। এরপর 'দাঙ্গা', 'লুটতরাজ', 'তেজী' এবং কালজয়ী 'আম্মাজান'-এর মতো তিন শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করে তিনি হয়ে ওঠেন আপামর জনসাধারণের 'মান্না ভাই'। ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মাত্র ৪৩ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

সময়ের সাক্ষী এক ফ্রেম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলচ্চিত্রবিষয়ক বিভিন্ন পেজে ছবিটি শেয়ার করে ভক্তরা নানা মন্তব্য করছেন। কেউ বলছেন, এটি দুই ভুবনের দুই তারকার মিলনমেলা, আবার কেউ বলছেন— ছবিটি একটি বিশেষ সময়ের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটকে ধারণ করে আছে। ১৭ বছর পর তারেক রহমানের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হওয়ার দিনে এই ছবিটি যেন কেবল একটি স্থিরচিত্র নয়, বরং ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী হয়ে ধরা দিয়েছে।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন