ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

প্রকাশ: শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

অনলাইন ডেস্ক: প্রাণঘাতী ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রকোপ প্রতিরোধে কেবল সরকারের উদ্যোগ কিংবা সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর নির্ভর না করে দেশের সব শ্রেণির নাগরিককে সশরীরে দায়িত্ব পালন করার জোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ করে দেশের বিশাল শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজকে নিজেদের বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং চারপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচালিত বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ও বাংলাদেশ স্কাউটসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিদর্শন শেষে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

এর আগে শনিবার সকালে ডেঙ্গু ডেডিকেটেড চিকিৎসাসেবার সার্বিক মান এবং পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি সরজমিনে খতিয়ে দেখতে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই রাজধানীর কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীদের শয্যাপাশে যান এবং চিকিৎসাসেবা ও ওষুধের খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ) ও অপারেশন থিয়েটারসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন।

পরিদর্শনকালে সার্বিক পরিবেশ এবং হাসপাতাল প্রাঙ্গণের পরিচ্ছন্নতায় ব্যাপক ঘাটতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা শুধরে হাসপাতালের পরিবেশের আমূল পরিবর্তন আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোরভাবে ৭ দিনের সময় বেঁধে দেন তিনি।

পরবর্তীতে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে গিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের মুখোমুখি হন প্রধানমন্ত্রী। ডেঙ্গু ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে তরুণদের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বছরের এই সময়ে, বিশেষ করে নভেম্বর মাস পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি থাকে। প্রতি বছর বহু মানুষ আক্রান্ত হন এবং প্রাণ হারান। এ থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র কার্যকর পথ হচ্ছে প্রতিরোধ, যার জন্য পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই।”

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, “ঢাকা আড়াই কোটি মানুষের বিশাল এক নগরী। এখানে সিটি কর্পোরেশনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই শুধু সিটি কর্পোরেশন বা প্রশাসনের ভরসায় থাকলে চলবে না। তরুণরা যদি নিজ নিজ এলাকার দায়িত্ব নেয়, তবে পরিবেশ রক্ষায় বিশাল পরিবর্তন আসবে।”

একই সাথে যত্রতত্র ময়লা ফেলার বাজে অভ্যাস পরিত্যাগ করতে এবং নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার বিষয়ে সামাজিকভাবে জনসচেতনতা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী।