রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে পাশে থাকার আশ্বাস ওআইসির
জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিজ ভূমিতে দ্রুত, সম্মানজনক ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন সংস্থাটির নবনির্বাচিত মহাসচিব ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দীর্ঘায়িত এ সংকটের স্থায়ী সমাধান না হলে গোটা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে সৌদি আরবের জেদ্দায় ওআইসি সচিবালয়ে সংস্থার নবনির্বাচিত মহাসচিবের কাছে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত এম জে এইচ জাবেদ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের নির্বাচিত সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের আনুষ্ঠানিক অভিনন্দনপত্র মহাসচিবের হাতে তুলে দেন।
বৈঠকে ওআইসি মহাসচিব উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গা সংকট কেবল বাংলাদেশের একক কোনো বিষয় নয়; এটি আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই মানবিক সংকটের দ্রুত ও টেকসই সমাধান না হলে পুরো অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে, যা সদস্য রাষ্ট্রগুলোসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মারাত্মক ভোগান্তি ডেকে আনবে। এ সময় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি নতুন দায়িত্বভার গ্রহণ করায় মহাসচিবকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান এবং ওআইসির সার্বিক কার্যক্রমে বাংলাদেশ সরকারের পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।
সাক্ষাৎকালে ওআইসি মহাসচিব বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিবাচক গণতান্ত্রিক উত্তরণের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী ও গতিশীল নেতৃত্বে দেশের চলমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নতুন মাত্রা পাবে। এছাড়া তাঁর আন্তর্জাতিক সফরসূচির অগ্রাধিকার তালিকায় বাংলাদেশ একদম শীর্ষ সারিতে রয়েছে বলেও মহাসচিব জানান।
বাংলাদেশের গাজীপুরে প্রতিষ্ঠিত ওআইসির অন্যতম শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) অবদানের কথা স্মরণ করে মহাসচিব বলেন, মুসলিম উম্মাহর সদস্য দেশগুলোতে বিজ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তি শিক্ষার বিস্তারে এই বিশ্ববিদ্যালয় অসামান্য ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মেশিন লার্নিং ও আধুনিক প্রযুক্তিতে আইইউটির গবেষণা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা বহুগুণ বাড়াতে ওআইসি সচিবালয় থেকে নতুন কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বৈঠকে আরও আলোচনা হয় যে, অর্থনৈতিক ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যকে কাজে লাগিয়ে ওআইসিভুক্ত দেশগুলো যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে নিজেদের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে পারে। বিশেষ করে চুক্তিভিত্তিক কৃষিকাজ (কনট্রাক্ট ফার্মিং), স্বাস্থ্যসেবা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, হসপিটালিটি সেক্টর এবং কারিগরি শিক্ষায় যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে ‘উইন-উইন’ বা উভয় পক্ষের লাভজনক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব ও এ দেশের জনগণের প্রতি ওআইসির আন্তরিক সহযোগিতার জন্য মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রদূত এম জে এইচ জাবেদ বলেন, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক যৌথ স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে বাংলাদেশ আগামী দিনে ওআইসির সাথে আরও নিবিড় ও কার্যকরভাবে কাজ করে যাবে।