জ্বালানি খাতে ৪০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ: নজরুল ইসলাম খান
অনলাইন ডেস্ক: দেশের চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থাপনা বজায় রেখে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান। তিনি উল্লেখ করেন, সংকটের গভীরতা বিবেচনা করে সরকার এ খাতে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার মতো অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস বা ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, "আমাদের জাতীয় জ্বালানি খাত মূলত আমদানিনির্ভর। দেশীয় খনিজ সম্পদের পরিকল্পিত উন্নয়ন ও উত্তোলনের লক্ষ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান 'বাপেক্স' প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, বিগত ১০-১৫ বছরে এই কৌশলগত প্রতিষ্ঠানটিকে প্রায় অকার্যকর করে রাখা হয়েছিল।"
তিনি আরও যোগ করেন, "জ্বালানি খাতের সমস্যাগুলো রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবুও সরকার বিকল্প উপায়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহের চেষ্টা চালাচ্ছে। এমনকি এ বিষয়ে প্রতিবেশী মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চলমান রয়েছে। এ খাতে সরকারের অতিরিক্ত ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া আমাদের অর্থনীতির জন্য একটি বিরাট বড় পদক্ষেপ।"
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, "রাজনৈতিক দলগুলোকে 'জুলাই সনদের' যে দলিল দেওয়া হয়েছিল, তা প্রতিটি গণতান্ত্রিক দলের জন্যই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সেখানে সংবিধান সংস্কারের জন্য ‘সংশোধন’ শব্দের উল্লেখ ছিল, যা এখন নানাভাবে আলোচিত হচ্ছে। জুলাই সনদের ধারা অনুযায়ী, নির্বাচনে জয়ী হয়ে যারাই ক্ষমতায় আসবে, তারা ভোটের আগে জনগণের কাছে নিজস্ব 'নোট অব ডিসেন্ট' তুলে ধরবে এবং জনগণের রায়ের ভিত্তিতেই সনদ বাস্তবায়ন করবে। তা সত্ত্বেও, জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণে রাজনৈতিক আলোচনার বিকল্প নেই।"
সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক পুলিশ প্রধান (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি জানান, "তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনি মুখোমুখি করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরকারের সাথে নিবিড় কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হচ্ছে। তিনি যাতে সেখানে কোনো ধরনের আইনি সুবিধা না পান, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।"
সরকারের ছয় মাসের সামগ্রিক মূল্যায়নে নজরুল ইসলাম খান বলেন, "বিগত ছয় মাসে সরকার যা করতে সক্ষম হয়েছে, তা হয়তো বিশাল কিছু নয়, তবে নিতান্ত কমও নয়। সাধারণ নাগরিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যেভাবে সরকারকে সহযোগিতা করছেন, তা প্রশংসনীয়।"
উক্ত মতবিনিময় ও সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন—প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ডা. জাহিদ উর রহমান, প্রেস সচিব ও কার্যালয়ের মুখপাত্র সালেহ শিবলী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রেস উইংয়ের সদস্যবৃন্দ।
|