ন্যাটোর সঙ্গে রাশিয়ার সরাসরি যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়ছে: পেসকভ

প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০২:২৬ অপরাহ্ণ
ন্যাটোর সঙ্গে রাশিয়ার সরাসরি যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়ছে: পেসকভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দীর্ঘ চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবার এক নতুন ও অত্যন্ত বিপজ্জনক মোড় নিতে যাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, খুব শীঘ্রই এই সংঘাত ইউক্রেনের সীমানা ছাড়িয়ে উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা ন্যাটোর (NATO) সঙ্গে রাশিয়ার সরাসরি ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। ক্রেমলিনের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো আভাস দিয়েছে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধ থামানো তো দূরের কথা, বরং আগামী দিনে এই যুদ্ধকে আরও তীব্র ও বিধ্বংসী করার ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও ক্রেমলিনের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির বরাতে এই যুদ্ধোত্তর পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দপ্তরের (ক্রেমলিন) দীর্ঘদিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত কড়া ও কড়া ভাষায় বার্তা দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বা সামরিক চাপ বাড়িয়ে রাশিয়াকে নতি স্বীকার করানো যাবে না এবং কোনো একতরফা শান্তি চুক্তিতে বাধ্য করা যাবে না। পেসকভ উল্টো হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইউক্রেন ও পশ্চিমা জোট যদি রাশিয়ার ওপর হামলা অব্যাহত রাখে, তবে রুশ বাহিনী ইউক্রেনের আরও নতুন নতুন বিশাল এলাকা দখল করে নিজেদের সীমান্তে একটি নিরেট ‘নিরাপত্তাবলয়’ বা বাফার জোন তৈরি করবে।

আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই প্রলয়ংকারী যুদ্ধে দুই পক্ষ মিলিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ লাখ (২ মিলিয়ন) সৈন্য হতাহত হয়েছে। যার মধ্যে এককভাবে রাশিয়ারই প্রায় ১৪ লাখ সৈন্য নিহত বা গুরুতর আহত হয়েছে। এত বিপুল পরিমাণ জানমালের ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও ইউক্রেনের খনিজসমৃদ্ধ ‘ডনবাস’ অঞ্চল সম্পূর্ণ দখল করা এখন পুতিনের জন্য এক পরম রাজনৈতিক ও সামরিক ‘মর্যাদার লড়াই’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ডনবাস জয় নিশ্চিত করতে পুতিন হয়তো ন্যাটোর অন্তর্ভুক্ত বাল্টিক রাষ্ট্রসমূহ (এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া) কিংবা রোমানিয়ার ন্যাটো ঘাঁটিতে আকস্মিক ও বিচ্ছিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা চালাতে পারেন। এই হামলার মূল উদ্দেশ্য হবে ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ ও ফাটল সৃষ্টি করা। তবে এই ধরনের যেকোনো হঠকারী পদক্ষেপ ন্যাটোর অনুচ্ছেদ-৫ (যৌথ প্রতিরক্ষা নীতি) সচল করে রাশিয়ার সাথে সরাসরি মহাযুদ্ধের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সম্প্রতি রাশিয়ার অভ্যন্তরে থাকা বেশ কয়েকটি প্রধান তেল শোধনাগার, জ্বালানি টার্মিনাল এবং কৌশলগত বাণিজ্যিক বন্দরগুলোয় ইউক্রেনের দূরপাল্লার আত্মঘাতী ড্রোন হামলার কারণে পুতিনের যুদ্ধংদেহী মনোভাব আরও কঠোর হয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রাশিয়ার মূল চালিকাশক্তি জ্বালানি খাতে আঘাত করে মস্কোকে দমানো যাবে না এবং এই অপরাধের জন্য ইউক্রেনকে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।

এদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুল আলোচিত ‘শান্তি প্রক্রিয়া’ বা মধ্যস্থতার উদ্যোগ মাঠ পর্যায়ে সম্পূর্ণ ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ও রাশিয়ার বিমান হামলা থেকে ইউক্রেনের আকাশসীমা রক্ষা করতে ডোনাল্ড ট্রাম্প এক যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়েছেন। তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটোর উচ্চপর্যায়ের শীর্ষ সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে ট্রাম্প ইউক্রেনকে আমেরিকার তৈরি অত্যাধুনিক ‘প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা’ (Patriot Missile Defense System) নিজে থেকেই উৎপাদন বা তৈরির লাইসেন্স দেওয়ার কথা জানান।

ট্রাম্প জানান, এই লাইসেন্সের ফলে ইউক্রেন ভবিষ্যতে রাশিয়ার ওপর নির্ভর না করে নিজেই এই বিশ্বসেরা প্রতিরক্ষামূলক আকাশ অস্ত্র তৈরি করতে পারবে। তবে রাশিয়ার সম্ভাব্য বিমান বা গোয়েন্দা হামলা এড়াতে এবং কারখানা সুরক্ষার স্বার্থে এই সংবেদনশীল ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইউক্রেনের মাটিতে নয়, বরং জার্মানি বা অন্য কোনো নিরাপদ ইউরোপীয় দেশের কারখানায় তৈরি করে ইউক্রেনীয় ফোর্সের কাছে সরবরাহ করা হতে পারে।

মন্তব্য করুন