সিলেট সীমান্তে পুশ-ইন রুখে দিল বিজিবি
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কৌশলগত কালাইরাগ সীমান্ত এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে বলে বিজিবির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
সিলেট ৪৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয়, ভোররাতে অন্ধকার ও কুয়াশার সুযোগ নিয়ে নারী-পুরুষসহ মোট সাতজনকে বিএসএফের সদস্যরা জোর করে বাংলাদেশের ভূখণ্ডের ভেতরে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করছিল। তবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি আগেই জানতে পেরে বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে কঠোর অবস্থান নেয়। বিজিবির এমন অনড় ও তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের মুখে বিএসএফের ওই পুশ ইনের চেষ্টা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর থেকে পুরো সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি আগের চেয়ে বহুগুণ জোরদার করা হয়েছে।
পুরো বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট বিজিবি ৪৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হক সাংবাদিকদের বলেন, “আজ ভোরে কালাইরাগ সীমান্তের আন্তর্জাতিক শূন্যরেখা (জিরো লাইন) থেকে প্রায় ২০ থেকে ২৫ গজ বাংলাদেশের ভেতরে ওই সাতজনকে নিয়ে এসে পুশ-ইনের একটি স্পষ্ট চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে সীমান্তে জাগ্রত বিজিবির প্রখর দৃষ্টি ও সতর্ক সদস্যরা তা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে প্রতিহত করেছেন। আমাদের ভূখণ্ডে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ আমরা বরদাশত করব না।”
অধিনায়ক আরও যোগ করেন, “সীমান্তের এই অনভিপ্রেত ঘটনার পরপরই বিজিবির পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী বিএসএফকে জরুরি কোম্পানি কমান্ডার বা ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের (ফ্ল্যাগ মিটিং) আহ্বান জানানো হয়েছে। আনুষ্ঠানিক বৈঠকে এই পুশ ইনের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হবে এবং বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।”
বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, আজ সন্ধ্যা ৬টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত, যে ৭ জনকে জোরপূর্বক পুশ ইনের চেষ্টা করা হয়েছিল, বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তাঁরা এখনও সীমান্তের শূন্যরেখার ভারতীয় অংশেই অবস্থান করছেন। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কালাইরাগ সীমান্তে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
|