ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: লেবাননে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের পর শুক্রবার (১৯ জুন) যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ। যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তার বরাতে এই তথ্য জানা গেছে। তবে এই সংঘাতকে কেন্দ্র করে মাত্র দুই দিন আগে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি এবং এর মধ্য দিয়ে গঠিত সার্বিক শান্তি প্রক্রিয়ার ওপর নতুন করে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
লেবানন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির আগে চালানো সর্বশেষ ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরাইল দাবি করেছে, হিজবুল্লাহর সঙ্গে লড়াইয়ে তাদের চার সেনা নিহত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের পর দুই পক্ষের মধ্যে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় যৌথ প্রাণহানির ঘটনা।
এই চরম উত্তেজনার জেরে শান্তি চুক্তিটিকে আরও এগিয়ে নিতে এবং একটি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডে নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে। তবে বৈঠকের নতুন কোনো তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন টেলিফোনে কথা বলেছেন। লেবাননের প্রেসিডেন্ট দপ্তর জানায়, আউন মার্কিন সহায়তার জন্য রুবিওকে ধন্যবাদ জানান এবং জোর দিয়ে বলেন, ‘লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরাইলি হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে হবে।’
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ফোনালাপে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও লেবাননের হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার প্রচেষ্টাকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, আগামী ২৩ থেকে ২৫ জুন ওয়াশিংটনে দুই দেশের পরবর্তী দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হবে। সেখানে রুবিও আবারও জোর দিয়ে বলেন যে, হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র করে পুরো লেবানন ভূখণ্ডে বৈরুত সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লাইটার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে জানান, ইসরাইল লেবাননে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির পক্ষে। তবে এর জন্য হিজবুল্লাহকে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সব ধরনের হামলা পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের অবসান ঘটানো, যে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এই চুক্তির আরেকটি প্রধান উদ্দেশ্য ছিল লেবাননের যুদ্ধ বন্ধ করা, কারণ ইরান সব সময়ই এই সংঘাতকে যে কোনো চুক্তির আওতাভুক্ত করার শর্ত দিয়ে আসছিল। তবে চুক্তি সত্ত্বেও লেবাননে ইসরাইলের চলমান সামরিক অভিযান ওয়াশিংটনের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক জটিলতা ও অস্বস্তি তৈরি করেছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকরের ঠিক আগমুহূর্তেও শুক্রবার লেবাননে হিজবুল্লাহর ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায় ইসরাইলি সেনাবাহিনী।
|