চরফ্যাশনে কিশোরী ধর্ষণ, অভিযুক্তকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি: ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় এক ১৩ বছরের কিশোরীকে ঘরে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ৫৫ বছর বয়সী প্রতিবেশী মোহাম্মদ রফিকের বিরুদ্ধে। উপর্যুপরি এই পাশবিকতার জেরে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে গর্ভপাত করানো হয়। এতে কিশোরীর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়লে পুরো বিষয়টি জানাজানি হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত রফিককে হাতেনাতে আটকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
গ্রেফতারকৃত রফিক মিয়া উপজেলার সংশ্লিষ্ট গ্রামের মৃত আলম মেকারের ছেলে।
ভুক্তভোগী কিশোরী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কিশোরীর বাবা একজন হোটেল কর্মচারী। তাঁরা চরফ্যাশন পৌরসভা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে চার মাস আগে রফিক কৌশলে ওই কিশোরীকে নিজের ঘরে ডেকে নেন। সেখানে প্রথম দফায় তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে তাকে একটি অজ্ঞাত ওষুধ খাইয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য প্রাণনাশের ভয় দেখানো হয়।
ভয়ে কিশোরী প্রথমে চুপ থাকলেও রফিকের লালসা থামেনি। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় সময়ই রফিকের স্ত্রী নিজে ওই কিশোরীকে বিভিন্ন উছিলায় ঘরে ডেকে এনে স্বামীর হাতে তুলে দিতেন। এভাবে দিনের পর দিন কিশোরীটি পাশবিক নির্যাতনের শিকার হতে থাকে।
টানা চার মাস পর কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন দেখে তার মায়ের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে কিশোরী তার মায়ের কাছে সব খুলে বলে। লোকলজ্জা ও মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে পরিবারটি বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করে এবং গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত নেয়। গত শনিবার রাতে এক নার্সের মাধ্যমে ওই কিশোরীর গর্ভপাত করানো হয়। কিন্তু এর পরপরই তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে এবং সে মৃত্যুর মুখে পড়ে। কিশোরীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়লে পুরো ঘটনাটি প্রতিবেশীদের মধ্যে জানাজানি হয়ে যায়।
কিশোরীর খালা জানান, "প্রথমে আমরা শারীরিক পরিবর্তন বুঝতে পারিনি। পরে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে বিষয়টি নিশ্চিত হই। আমরা এই নির্মমতার বিচার চাই।"
ঘটনাটি জানার পর শনিবার রাতেই স্থানীয় জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তাঁরা রফিকের বাড়ি ঘেরাও করে তাকে আটকে উত্তম-মাধ্যম (গণধোলাই) দেন। পরে খবর পেয়ে চরফ্যাশন থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং রফিককে হেফাজতে নেয়। বর্তমানে ভুক্তভোগী কিশোরী চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে মোহাম্মদ রফিককে একমাত্র আসামি করে চরফ্যাশন থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। রফিক পুলিশ হেফাজতে থাকায় এই বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহামুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সকালবেলা-কে বলেন, "নির্যাতনের শিকার কিশোরীটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার বাবার দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত রফিককে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। গতকাল রবিবার (১৪ জুন) সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।"
এআইএল/সকালবেলা
|