জনকল্যাণে আল-কায়েদা: মালির চরাঞ্চলে শুরু হয়েছে ভিন্নধর্মী শাসন

প্রকাশ: সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০৪:৪৯ অপরাহ্ণ
জনকল্যাণে আল-কায়েদা: মালির চরাঞ্চলে শুরু হয়েছে ভিন্নধর্মী শাসন
ছবি: রয়টার্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আফ্রিকার দেশ মালিতে আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পৃক্ত সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘জামাত নুসরত আল-ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন’ (জেএনআইএম) তাদের দীর্ঘদিনের শাসন কৌশল ও নীতিতে পরিবর্তন এনেছে। যেসব এলাকায় তাদের নিয়ন্ত্রণ দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেখানে বলপ্রয়োগ বা কঠোর সাজার পরিবর্তে তারা বেসামরিক উপায়ে শাসনকাজ পরিচালনার চেষ্টা করছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

শনিবার (১৩ জুন) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিগত বছরগুলোতে এই গোষ্ঠীর সদস্যরা যে অঞ্চলে কঠোর ইসলামি আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে চরম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিত, বর্তমানে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মধ্য মালির জেএনআইএম নিয়ন্ত্রিত এলাকার অন্তত সাতজন বাসিন্দা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, গোষ্ঠীটি এখন নিয়মিত কর আদায়ের পাশাপাশি দরিদ্রদের মাঝে খাদ্য, গবাদিপশু ও চিকিৎসা সামগ্রী বিতরণ করছে। এছাড়া ফুটবল খেলা বা স্মার্টফোন ব্যবহারের মতো স্থানীয় বিষয়গুলোতেও তারা এখন আগের মতো কড়াকড়ি করছে না।

সাহেল অঞ্চলের নিরাপত্তা বিশ্লেষক করিন দুফকা জানান, “গোষ্ঠীটি যত বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠছে, তাদের শাসন পরিচালনায় বলপ্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা ততটাই কমে আসছে।” তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয়রা এখন এই নতুন বাস্তবতাকে মেনে নিয়েছে এবং জেএনআইএম কৃষকদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি এবং আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলোকে কাজ করার অনুমতি দিয়ে নিজেদের শাসনব্যবস্থার রাজনৈতিক বৈধতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।

বিগত ২০২০ ও ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর মালির জান্তা সরকার ফরাসি ও জাতিসংঘের প্রায় ১৫ হাজার সেনা প্রত্যাহার করে নেয় এবং রাশিয়ার নিরাপত্তা চুক্তিভিত্তিক বাহিনী ‘আফ্রিকান কর্পস’ (সাবেক ভাগনার)-এর ওপর নির্ভরতা বাড়ায়। এর পর থেকে জেএনআইএম-এর শক্তি আরও বৃদ্ধি পায়। চলতি বছরের এপ্রিলে রাজধানী বামাকোর বিমানবন্দর ও সামরিক ঘাঁটিতে বড় ধরনের সমন্বিত হামলা চালিয়ে তারা নিজেদের সামরিক সক্ষমতার প্রমাণ দেয়। তবে সামরিক অভিযানের পাশাপাশি তারা এখন স্থানীয়ভাবে প্রশাসনিক শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিচ্ছে।

অবশ্য এই প্রশাসনিক নমনীয়তার পাশাপাশি গোষ্ঠীটি এখনো তাদের প্রতিরোধী অঞ্চলে কঠোর সামরিক অভিযান বজায় রেখেছে। গত মে মাসেও তাদের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা দুটি গ্রামে হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া অবরুদ্ধ কিছু গ্রামে খাদ্য সংকটের খবরও পাওয়া গেছে।

এদিকে মালির জান্তা সরকার এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে যেকোনো ধরনের আলোচনা বা সংলাপের প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। মালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুলায়ে দিওপ স্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশের অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সরকার কোনো সংলাপে যাবে না। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি ও রুশ বাহিনীর অভিযানে বেসামরিক নাগরিক নিহতের হার বৃদ্ধির কারণে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর একটি অংশ এই গোষ্ঠীর দিকে ঝুঁকছে, যা এই অঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলছে।

সূত্র: রয়টার্স/ আর এইচ

মন্তব্য করুন