নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, ২৪ নেতাকর্মী আটক
অনলাইন ডেস্ক: নোয়াখালীর সদর উপজেলায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল বের করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ২৪ জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। তাৎক্ষণিকভাবে আটককৃতদের বিস্তারিত নাম-পরিচয় প্রকাশ না করলেও পুলিশের দাবি, অভিযান চালিয়ে যাদের আটক করা হয়েছে তাদের মধ্যে ৯ জন যুবলীগ এবং ১৫ জন ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতাকর্মী রয়েছেন। আজ শনিবার (৬ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নোয়াখালীর সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে সদর উপজেলার এওজবালিয়া, কালাদরাপ ও নোয়াখালী পৌরসভা এলাকার বিভিন্ন স্থানে পৃথক বিশেষ অভিযান চালিয়ে এই ২৪ জনকে আটক করা হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এর আগে গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে সদর উপজেলার বাঁধেরহাট বাজার এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আচমকা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ওই বাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় মিছিলে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা মব সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিবিরোধী বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিছিল চলাকালে বাজার এলাকায় মাত্র কয়েকজন পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু পুলিশের তুলনায় মিছিলকারীদের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া পুলিশের পক্ষে সম্ভব হয়নি। এই ঘটনার পর নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রকাশ্য মিছিলের বিষয়টি জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি করে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আশরাফুল করিমের সরাসরি নেতৃত্বে এই বিক্ষোভ মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়। এই কর্মসূচি সফল করতে দুপুর থেকেই সংগঠনটির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী বাঁধেরহাট বাজার এলাকায় এসে জড়ো হতে থাকেন। সুধারাম মডেল থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম বলেন, "ছাত্রলীগের মিছিলের সম্ভাব্য গোপন তথ্য পাওয়ার পর আগে থেকেই বাঁধেরহাট বাজার এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত স্থানে পুলিশের বাধার মুখে কর্মসূচি পালন করতে না পেরে, পরবর্তীতে তারা কৌশলে বাজারের বাইরে গিয়ে এই মিছিলটি করে। ঘটনার পরপরই পুলিশ তৎপর হয় এবং রাতভর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৪ জনকে আটক করতে সক্ষম হয়।" আটককৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
|