নাগরপুরে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণ: থানায় মামলা
রিপন খান রবিন, নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের নাগরপুরে এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নারীকে (২৯) জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে শাকিব (২২) নামে প্রতিবেশী এক যুবকের বিরুদ্ধে।
গতকাল শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের কাজীর পাচুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রতিবন্ধী নারীর মা বাদী হয়ে ওই রাতেই নাগরপুর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত মো. শাকিব কাজীর পাচুরিয়া গ্রামের সাজ্জাদ মিয়ার ছেলে। সে সম্পর্কে ভুক্তভোগী পরিবারের দূরসম্পর্কের আত্মীয়।
প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গতকাল বিকেলে কাজীর পাচুরিয়া গ্রামের আবুল হাসেমের বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মেয়েকে সাথে নিয়ে তাঁর মা রোজিনা বেগম বাড়ির পাশে ধানের খোলায় কাজ করতে যান। একপর্যায়ে মেয়েটি খোলা থেকে ধান নিয়ে একাই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। মেয়েটির বাড়িতে ফিরতে দেরি হওয়ায় মা রোজিনা বেগম তাকে খুঁজতে বাড়ির দিকে রওনা হন। পথিমধ্যে তিনি বাড়ির পাশের একটি জমির আইলে প্রতিবেশী যুবক শাকিবকে তাঁর প্রতিবন্ধী মেয়েটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করতে দেখেন। এ সময় মায়ের উপস্থিতি টের পেয়ে ধর্ষক শাকিব দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীর মা রোজিনা বেগম বলেন, "আমার মেয়েটি জন্ম থেকেই বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। বাড়ির পাশে ওহাব খানের ধানের খোলায় কাজ শেষ করে সে একাই বাড়ি ফিরছিল। একা পেয়ে প্রতিবেশী শাকিব আমার মেয়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক এই পাশবিক নির্যাতন চালায়। আমি নিজ চোখে তা দেখেছি এবং চিৎকার দিলে সে পালিয়ে যায়। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।"
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও নাগরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আজ শনিবার সকালে ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী নারীর ডাক্তারি পরীক্ষার (মেডিকেল টেস্ট) জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুরাদ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শাকিব পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান ও জোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।"
এআইএল/সকালবেলা
|