শিশু নির্যাতন শুধু আইন দিয়ে নির্মূল সম্ভব নয়: ডেপুটি স্পিকার

প্রকাশ: শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৪:৫৮ অপরাহ্ণ
শিশু নির্যাতন শুধু আইন দিয়ে নির্মূল সম্ভব নয়: ডেপুটি স্পিকার

অনলাইন ডেস্ক: দেশে ক্রমবর্ধমান শিশু নির্যাতন মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে একটি সমন্বিত শিশু নিরাপত্তা টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। আজ শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারের কনফারেন্স রুমে ‘নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেল’ আয়োজিত “বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান শিশু নির্যাতন মোকাবিলা: প্রতিবন্ধকতা, দায়িত্ব ও করণীয়” শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। ডেপুটি স্পিকার বলেন, "শিশু নির্যাতন একটি গুরুতর সামাজিক ব্যাধি, যা কেবল আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব নয়। এই সমস্যা মোকাবিলায় পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, গণমাধ্যম এবং রাষ্ট্রের সকল অংশীজনকে একযোগে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমাজের সবাইকে যার যার জায়গা থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।"

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আরও বলেন, শিশু নির্যাতনের মূল কারণসমূহ সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে বিদ্যমান আইন, নীতি ও সুরক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান ঘাটতিগুলো গভীরভাবে মূল্যায়ন করা এখন সময়ের দাবি। একই সাথে তিনি শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ, মানবিক ও সহিংসতামুক্ত সমাজ গঠনে কার্যকর ও টেকসই কৌশল প্রণয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, শিশুদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। বহুল আলোচিত রামিসা হত্যার বিচার প্রসঙ্গে ডেপুটি স্পিকার আশ্বস্ত করে বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সময়ে আমাদের কথার চেয়ে কাজে বেশি বিশ্বাসী হতে হবে।

বর্তমান প্রযুক্তির যুগে শিশুদের প্রতি শারীরিক, মানসিক এবং বিশেষ করে অনলাইনভিত্তিক নির্যাতনের ঝুঁকি উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, এ প্রেক্ষাপটে অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার, প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং শিশুদের অধিকার সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের আইনি, চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মানবিক দায়িত্ব পালন করছে, যা নির্যাতিতদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা রাখছে। ‘নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেল’-এর কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী প্রফেসর ড. মো. রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় উক্ত গোলটেবিল বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মিজ ফারজানা শারমীন, এমপি নিপুণ রায় চৌধুরী, বরেণ্য অভিনেতা আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, নিহত রামিসার বাবা এবং নারী ও শিশু অধিকার বিষয়ক বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী, মানবাধিকার কর্মীসহ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

মন্তব্য করুন