বাইতুল মাল যিনি প্রতিষ্ঠা করেন

জান্নাতুল ফেরদৌস
প্রকাশ: সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০৩:৩৬ অপরাহ্ণ
বাইতুল মাল যিনি প্রতিষ্ঠা করেন

ইসলামী জীবন ডেস্ক: ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যেখানে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি দিক সুনিপুণভাবে বর্ণিত হয়েছে। ইসলামী রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলো ‘বাইতুল মাল’ বা রাষ্ট্রীয় কোষাগার। এই ব্যবস্থার গোড়াপত্তন এবং এর প্রথম দায়িত্বশীল কে ছিলেন, তা নিয়ে ইসলামের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে।

বাইতুল মাল’ বলতে এমন একটি ব্যবস্থা বা স্থানকে বোঝায় যেখানে রাষ্ট্রের যাবতীয় আয় (যেমন: জাকাত, কর, যুদ্ধলব্ধ সম্পদ ইত্যাদি) জমা রাখা হয় এবং সেখান থেকে জনগণের জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হয়। এটি ইসলামী অর্থনৈতিক কাঠামোর স্বচ্ছতা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতীক।

ইসলামে বাইতুল মালের গোড়াপত্তন কে করেছেন, তা নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে দুটি প্রধান মত রয়েছে: ১. আবু বকর সিদ্দিক (রা.): অধিকাংশ ঐতিহাসিকের মতে, প্রথম খলিফা আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-ই সর্বপ্রথম ‘আস-সুনহ’ নামক স্থানে এই কোষাগার উদ্বোধন করেন। তিনি অত্যন্ত বিশ্বস্ত সাহাবি আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ (রা.)-কে কোষাগারের প্রথম তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে নিযুক্ত করেন। মহানবী (সা.) আবু উবাইদাহ (রা.)-কে ‘এই উম্মতের আমিন’ বা সবচেয়ে বিশ্বস্ত ব্যক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। ২. উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.): কেউ কেউ মনে করেন দ্বিতীয় খলিফা উমর (রা.)-এর সময় থেকে আনুষ্ঠানিক বাইতুল মালের সূচনা হয়। তবে প্রথম মতটিই অধিক শক্তিশালী হিসেবে বিবেচিত।

আবু বকর (রা.)-এর সময় কোনো স্থায়ী প্রহরী ছাড়াই বিশ্বাসের ভিত্তিতে এই কোষাগার পরিচালিত হতো। সংগৃহীত অর্থ ও সম্পদ দরিদ্রদের মধ্যে বণ্টন এবং যুদ্ধের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনায় ব্যয় করা হতো। আবু বকর (রা.)-এর ইন্তেকালের পর উমর (রা.) এই ব্যবস্থার আরও আধুনিকায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দান করেন।

ইসলামের এই অর্থনৈতিক মডেল আজ সারা বিশ্বের জন্য এক উজ্জ্বল পথনির্দেশক হতে পারে, যা সামাজিক বৈষম্য দূর করতে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অদ্বিতীয়। (সূত্র: তারিখুল খোলাফা ও মাওসুয়াতুল ফিকহিয়্যাহ কুয়েতিয়্যাহ)

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন