পানির নিচে ১০ হাজার হেক্টর জমির ধান, ৩৪ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত

জান্নাতুল ফেরদৌস
প্রকাশ: সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০৩:২৬ অপরাহ্ণ
পানির নিচে ১০ হাজার হেক্টর জমির ধান, ৩৪ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত

টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বড় ধরনের কৃষি বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। জেলা কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত হাওরের অন্তত ১০ হাজার ৫০ হেক্টর বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে, যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৩৪ হাজার কৃষক। তবে বেসরকারি হিসেবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি।

  • আক্রান্ত এলাকা: জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। শুধু ইটনাতেই ৩ হাজার হেক্টর জমি তলিয়ে গেছে। এছাড়া নিকলী, বাজিতপুর, তাড়াইল ও করিমগঞ্জের নিম্নাঞ্চলেও ধান ডুবে গেছে।

  • উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা: চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩৬০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগ আশা করছে, ক্ষয়ক্ষতি বাদ দিলেও অন্তত ১০ লাখ মেট্রিক টন ধান পাওয়া যাবে।

  • শ্রমিক সংকট: বন্যার পানিতে ধান কাটতে তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। দৈনিক ২ হাজার টাকা মজুরি দিয়েও মিলছে না শ্রমিক।

  • যন্ত্রপাতির অকার্যকারিতা: জমিতে পানি উঠে যাওয়ায় হাওরের প্রায় ৬০০ হারভেস্টার মেশিন (ধান কাটার যন্ত্র) অকেজো হয়ে পড়ে আছে।

  • শুকানোর সমস্যা: রোদ না থাকায় আগে কাটা ধান শুকাতে পারছে না কৃষক। রাস্তার ওপর বা উঁচু স্থানে ধান শুকাতে দিলেও বৃষ্টির কারণে অনেক ধানে চারা গজিয়ে যাচ্ছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, ধনু-বৌলাই, মগড়া ও কালনী নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। ইটনা ও চামড়াঘাট পয়েন্টে পানির স্তর বৃদ্ধি পেলেও মেঘনা নদীর পানি কিছুটা কমেছে। নদীগুলো এখনো বিপৎসীমার নিচে থাকলেও বৃষ্টি ও ঢল অব্যাহত থাকলে আগাম বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

তকাল থেকে সরকারিভাবে ধান কেনা (৩৬ টাকা কেজি বা ১৪৪০ টাকা মণ দরে) শুরু হলেও বাস্তবে কোনো কৃষক গুদামে ধান নিতে পারছেন না। ভেজা ধানের কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। সাধারণ বাজারে বর্তমানে ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা মণ দরে।

হতাশ কৃষকরা জানান, ঋণের টাকা পরিশোধ আর পরিবারের ভরণপোষণ নিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। সরকারের কাছে ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন