নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। গত দেড় মাসে এই রোগে প্রায় তিনশ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। আজ সোমবার (৪ মে ২০২৬) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন্স অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের তথ্যমতে:
এক দিনে মৃত্যু: ১০ জন (১ জন নিশ্চিত হামে, ৯ জন উপসর্গে)। এর মধ্যে ঢাকায় ৫ জন, বরিশালে ২ জন এবং চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিলেটে ১ জন করে শিশু মারা গেছে।
মোট মৃত্যু: গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৫০ জন এবং হামের উপসর্গে ২৪৪ জনসহ মোট ২৯৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
আক্রান্তের সংখ্যা: এ পর্যন্ত ৪০ হাজার ৪৯১ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে, যার মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৫ হাজার ৩১৩ জনের।
হাসপাতালে ভর্তি: বর্তমানে ২৭ হাজার ৮১৬ শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে, যার মধ্যে ২৪ হাজার ৯০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
এদিকে গতকাল রোববার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলন শেষে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন দাবি করেছেন যে, হাম বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে ৮১ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় এনেছি এবং দ্রুতই শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা হবে। মৃত্যুহারও আগের চেয়ে কমেছে। সারা দেশে পর্যাপ্ত টিকার সরবরাহ রয়েছে।”
উবিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের শরীরে উচ্চ জ্বর, লালচে ফুসকুড়ি বা র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। টিকার মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ সম্ভব হওয়ায় অভিভাবকদের শিশুদের দ্রুত টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জান্নাত/সকালবেলা