নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। চলতি ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসেই (জানুয়ারি-এপ্রিল) বজ্রপাতে সারাদেশে অন্তত ৭২ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, নিহতদের মধ্যে একটি বিশাল অংশই পেশায় কৃষক।
শনিবার (২ মে) স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ‘সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম’ (এসএসটিএফ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ভয়াবহ পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বজ্রপাতে মৃত্যুর তালিকায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন কৃষকরা। গত ২৬ এপ্রিল একদিনেই দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতে ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই ক্রমবর্ধমান মৃত্যুর হার কমিয়ে আনতে কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জীবন রক্ষায় নির্দিষ্ট কিছু নির্দেশনা পালনের ওপর জোর দিয়েছে সংগঠনটি।
সচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মে দিবস উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার মুন্সিগঞ্জের আড়িয়াল বিল এলাকায় শতাধিক কৃষকের মাঝে সরাসরি প্রচারণা চালিয়েছে এসএসটিএফ। সেখানে বজ্রপাতের সময় নিরাপদ থাকার বিভিন্ন কৌশল ও কৌশলগত অবস্থান সম্পর্কে কৃষকদের হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া হয়।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে কৃষকদের জন্য প্রধান তিনটি নির্দেশনার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে: ১. আকাশে ঘন কালো মেঘ দেখা দিলে বা বিদ্যুৎ চমকালে দ্রুত খোলা মাঠ ত্যাগ করে নিরাপদ আশ্রয়ে (পাকা দালান বা টিনের ঘর) চলে যেতে হবে। ২. মাঠে থাকা অবস্থায় যদি আশ্রয়ের জায়গা না থাকে, তবে কোনোভাবেই বড় গাছের নিচে দাঁড়ানো যাবে না। বরং পায়ের আঙুলের ওপর ভর দিয়ে হাত কানে চেপে নিচু হয়ে বসে পড়তে হবে। ৩. কৃষিকাজে ব্যবহৃত ধাতব যন্ত্রপাতি (কাঁচি, কোদাল, লাঙ্গল) থেকে দূরে থাকতে হবে এবং বজ্রপাতের সময় মোবাইল ফোন বা বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা একটি গণমাধ্যমকে জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বজ্রপাতের তীব্রতা ও সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষকরা যেহেতু দীর্ঘ সময় খোলা মাঠে কাজ করেন, তাই তারা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক সচেতনতা এবং আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছানো সম্ভব হলে এই মৃত্যুহার কমিয়ে আনা সম্ভব।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর এপ্রিল ও মে মাসে দেশে বজ্রপাতের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি থাকে। চলতি বছরের শুরুতেই এই বিপুল সংখ্যক প্রাণহানি ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।