ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ: ৬টি নতুন স্থল রুট খুলে দিল পাকিস্তান

আমিরুল ইসলাম
প্রকাশ: শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০১:৪৪ অপরাহ্ণ
ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ: ৬টি নতুন স্থল রুট খুলে দিল পাকিস্তান

নিজস্ব প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ-অবরোধের মুখে ইরানের সমুদ্রপথ ও বন্দরগুলো অচল হয়ে পড়ায় প্রতিবেশী দেশটিকে সহায়তায় এগিয়ে এসেছে পাকিস্তান। ইরানগামী হাজার হাজার পণ্যবাহী কন্টেইনার খালাস করতে আনুষ্ঠানিকভাবে ৬টি নতুন স্থল রুট খুলে দিয়েছে ইসলামাবাদ। করাচি বন্দরে আটকে থাকা কয়েক হাজার কন্টেইনারের জট কমানোই মূলত এই পদক্ষেপের প্রধান লক্ষ্য।

পাকিস্তানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ২৫ এপ্রিল ‘ট্রানজিট অব গুডস থ্রু টেরিটরি অব পাকিস্তান অর্ডার ২০২৬’ জারি করেছে, যা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই আদেশের ফলে তৃতীয় দেশ থেকে আসা পণ্যগুলো এখন পাকিস্তানের স্থলপথ ব্যবহার করে সরাসরি ইরানে পৌঁছাতে পারবে।

নতুন এই ৬টি রুট পাকিস্তানের প্রধান তিনটি বন্দর— করাচি, পোর্ট কাসিম ও গোয়াদরকে সরাসরি ইরানের গাবদ ও তাফতান সীমান্তের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এই করিডোরগুলো বেলুচিস্তানের তুরবত, পাঞ্জগুর, খুজদার, কোয়েটা ও দালবান্দিন হয়ে ইরানের প্রবেশদ্বারে পৌঁছাবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, বিশেষ করে গোয়াদর-গাবদ করিডোরটি হবে সবচেয়ে সাশ্রয়ী। এই পথে সীমান্ত পৌঁছাতে মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগবে এবং করাচি রুটের তুলনায় পরিবহন খরচ প্রায় ৪৫ থেকে ৫৫ শতাংশ হ্রাস পাবে।

পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান এই উদ্যোগকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি একটি গণমাধ্যমকে জানান, “এটি আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে এবং পাকিস্তানকে একটি প্রধান বাণিজ্য করিডোর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”

ইসলামাবাদে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর এই ঘোষণাটি এল। বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে পাকিস্তান মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে এই বিশাল ট্রানজিট সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছে ভারতকে। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর থেকে পাকিস্তানি ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতীয় পণ্য পরিবহনের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল, তা এখনও বহাল রয়েছে।

চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করলে দেশটির সামুদ্রিক বাণিজ্য পুরোপুরি মুখ থুবড়ে পড়ে। এর ফলে করাচি বন্দরেই ইরানের ৩ হাজারের বেশি কন্টেইনার আটকা পড়ে আছে।

ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইফতিখার ফিরদৌস একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “এটি একটি বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তন। এর মাধ্যমে পাকিস্তান এখন পশ্চিমমুখী বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আফগানিস্তানকে পুরোপুরি এড়িয়ে চলতে পারবে। এটি পাকিস্তানকে চীন-সমর্থিত বাণিজ্য রুটের মাধ্যমে পশ্চিম এশিয়ায় প্রবেশের প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।”

তবে এই উদ্যোগের নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক বিশ্লেষক। পেশোয়ারভিত্তিক গবেষক মিনহাস মাজিদ মারওয়াত সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “এখানে যেমন বড় সুযোগ রয়েছে, তেমনি ঝুঁকিও স্পষ্ট। বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তের অস্থির নিরাপত্তা পরিস্থিতি এই পুরো প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।”

মন্তব্য করুন