নিজস্ব প্রতিবেদক: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিচারিক ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ হয়েছে। দীর্ঘ ১০৪ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই অঞ্চলে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে যুগ্ম জেলা জজ এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের কার্যক্রম। এর ফলে কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলার সাধারণ মানুষের বিচারিক ভোগান্তি লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকালে কলাপাড়া চৌকি আদালত ভবনে এই আদালত দুটির কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন ভারপ্রাপ্ত বিচারক মেহেদী হাসান। এ সময় উপজেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ বিচারপ্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি উচ্চ আদালতের এক আদেশের প্রেক্ষিতে পটুয়াখালী জেলা শহর থেকে এই আদালত দুটি কলাপাড়ায় স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
স্থানীয় আইনজীবীরা জানান, এতদিন কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী এলাকার মানুষকে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার গুরুত্বপূর্ণ শুনানির জন্য পটুয়াখালী জেলা শহরে যেতে হতো। এতে অর্থ ও সময়ের অপচয়ের পাশাপাশি সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। এখন থেকে এই দুই উপজেলার সকল গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিচারিক কার্যক্রম স্থানীয় এই আদালতেই সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
উপজেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার নাসির উদ্দিন এই ঘটনাকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে একটি গণমাধ্যমকে বলেন, "এটি আমাদের দীর্ঘদিনের সংগ্রামের ফল। ১০৪ বছর পর কলাপাড়ায় এই আদালতের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় সাধারণ মানুষ এখন দোরগোড়ায় ন্যায়বিচার পাবেন। এটি এ অঞ্চলের সামগ্রিক বিচারিক ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করবে।"
এদিকে, আদালত দুটির কার্যক্রম স্থানীয় পর্যায়ে শুরু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে স্বস্তি নেমে এসেছে। বিচারপ্রার্থীরা মনে করছেন, আদালতের এই বিকেন্দ্রীকরণের ফলে মামলার দীর্ঘসূত্রতা যেমন কমবে, তেমনি দরিদ্র মানুষের জন্য আইনি সহায়তা পাওয়া অনেক সহজ হবে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এই উদ্যোগ কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলার সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।