আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সাবেক এফবিআই ডিরেক্টর জেমস কোমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জীবননাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ভার্জিনিয়ার একটি আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। তার বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের জীবনহানি ও শারীরিক ক্ষতি করার হুমকি এবং আন্তঃরাজ্য হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত জেমস কোমি ২০২৫ সালের মে মাসে ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি পোস্ট করেন। উত্তর ক্যারোলিনার একটি সৈকতে ঝিনুক দিয়ে '৮৬' এবং '৪৭' সংখ্যা দুটির আকৃতি তৈরি করা সেই ছবিটিই বিতর্কের মূলে। ট্রাম্প শিবিরের দাবি, এটি একটি গোপন হুমকি। মার্কিন রাজনৈতিক শব্দভাণ্ডারে '৮৬' শব্দটি কোনো কিছু বর্জন বা নির্মূল করার সংকেত হিসেবে ব্যবহৃত হয়, আর ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের দিকেই এর ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে।
ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়া শহরের একটি আদালতে শুনানির জন্য হাজির হন কোমি। সেখানে তিনি কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দাখিল করেননি এবং পরবর্তীতে তাকে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টোড ব্ল্যাঞ্চ সাংবাদিকদের জানান, কোমির পরবর্তী হাজিরার তারিখ এখনও নিশ্চিত নয়।
সংখ্যা পোস্ট করলেই কি ফৌজদারি অপরাধ হবে?—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে টোড ব্ল্যাঞ্চ বলেন, "প্রতিটি হুমকির প্রেক্ষাপট ভিন্ন। প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে সব মন্তব্যেই চার্জশিট হয় না, এটি সম্পূর্ণ তদন্তের ওপর নির্ভর করে।"
অন্যদিকে, জেমস কোমি তার ইনস্টাগ্রাম পোস্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, "এই সংখ্যাগুলো যে সহিংসতার প্রতীক হিসেবে দেখা হতে পারে, তা আমার কল্পনাতেও ছিল না। আমি সব ধরনের সহিংসতার বিরোধী, তাই পোস্টটি সরিয়ে দিয়েছি।"
উল্লেখ্য, ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এফবিআই প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন জেমস কোমি। ২০১৭ সালের মে মাসে ট্রাম্প তাকে বরখাস্ত করেন। গত সেপ্টেম্বরে তার বিরুদ্ধে কংগ্রেসে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল, যা ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে সমালোচিত হয়। তবে প্রসিকিউটর নিয়োগের আইনি ত্রুটির কারণে ফেডারেল আদালত সেই মামলাটি খারিজ করে দিয়েছিল।
সূত্র: টিআরটি উর্দু।