তবে কি বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনার হাতে, ভাইরাল ভবিষ্যৎবাণীর সত্যতা
অনলাইন ডেস্ক:খেলার মাঠে বল গড়ানোর আগেই কি অলক্ষ্যে লেখা হয়ে যায় কোনো দলের ভাগ্য? নাকি সোশ্যাল মিডিয়ার জটিল অ্যালগরিদম ও দেয়ালের আড়ালে লুকিয়ে থাকে কোনো অলৌকিক ভবিষ্যৎবাণী? ২০২৬ উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপ যখন তার চূড়ান্ত পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই ইন্টারনেট বিশ্বে ভাইরাল হওয়া পাঁচ বছর পুরোনো এক তথাকথিত ‘টাইম ট্রাভেলার’ পোস্ট নিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
রহস্যের সূত্রপাত গত রাতে, যখন লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা স্পেন সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টের প্রথম ফাইনালিস্ট হিসেবে জায়গা করে নেয়। এর পরপরই অন্য সেমিফাইনালে থমাস টুখেলের ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা।
দুই পরাশক্তির মেগা ফাইনাল নিশ্চিত হতেই নেটিজেনদের নজরে আসে এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মের ২০২১ সালের একটি রহস্যময় পোস্ট, যা দেখে সাধারণ দর্শক ও নেটিজেনদের চোখ চড়কগাছ!
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’ (The Sun)-এর খুঁজে বের করা ২০২১ সালের ১২ জুলাইয়ের সেই মূল এক্স পোস্টে পরিষ্কার ভাষায় লেখা ছিল— ২০২৬ উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। কেবল ফাইনালিস্টদের নামই নয়, পোস্টে আরও দাবি করা হয়েছিল যে, চরম উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনালে স্পেনকে ৩-২ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ট্রফি উঁচিয়ে ধরবে আর্জেন্টিনা।
বাস্তবে সেমিফাইনালের ফলগুলো হুবহু মিলে যাওয়ায় অতিপ্রাকৃতিক ঘটনায় বিশ্বাসী ফুটবল ভক্তরা মেতে উঠেছেন অলৌকিক নিয়তির বন্দনায়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনদের একাংশ যখন একে ‘টাইম ট্রাভেলার’-এর অলৌকিক লিখন বলে দাবি করছেন, ঠিক তখনই স্পোর্টস অ্যানালাইসিস বিষয়ক খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক পোর্টাল ‘ফুটবল৩৬৫’ (Football365) এবং আইটি বিশেষজ্ঞরা এর পেছনের চতুর প্রযুক্তিগত জালিয়াতি ও চালবাজি ফাঁস করেছেন।
বিশেষজ্ঞরা ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, এটি মূলত ডিজিটাল যুগের এক বহুল ব্যবহৃত ও পরিচিত সোশ্যাল মিডিয়া ট্রিক। কিছু নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্ট বা বট থেকে গোপনে আগেভাগেই মেগা টুর্নামেন্টের সম্ভাব্য কয়েকশো বা হাজারও কম্বিনেশনের (ফলাফলের) কাল্পনিক পোস্ট বানিয়ে প্রাইভেট বা লক করে রাখা হয়। টুর্নামেন্ট যত সামনের দিকে এগোতে থাকে এবং একের পর এক দল বাদ পড়তে থাকে, সুযোগসন্ধানী অ্যাকাউন্ট পরিচালকরা তখন ভুল ফলের পোস্টগুলো একে একে ডিলিট করে দেন।
পরবর্তীতে কেবল শতভাগ মিলে যাওয়া আসল পোস্টটিকে সার্বজনীন বা পাবলিক করে দেওয়া হয়। এর ফলে সাধারণ মানুষের কাছে মনে হয় বহু বছর আগেই কেউ হয়তো অলৌকিকভাবে ম্যাচের নিখুঁত ভবিষ্যৎবাণী করে রেখেছিলেন!
ডিজিটাল কারসাজির বিষয়টি প্রমাণিত হলেও, ফুটবল রোমান্টিকদের আড্ডায় এখন মূল প্রশ্ন একটাই— আগামী রবিবারের ফাইনালে ভাইরাল পোস্টের সেই ‘৩-২’ ব্যবধান সত্যি হয়ে মেসির হাতেই কি উঠতে যাচ্ছে অধরা শিরোপা নাকি তা নস্যাৎ করে ট্রফি ছিনিয়ে নেবে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা স্পেন? উত্তর মিলবে রবিবারের সেই ঐতিহাসিক মহারণেই।
|